‘কাউন্সিলর নেই, বিধায়ক নেই… এরা বিদেশি ফান্ডের পুতুল!’ CJP নেতাদের জামিন মিলতেই তোপ দিলীপের

‘কাউন্সিলর নেই, বিধায়ক নেই… এরা বিদেশি ফান্ডের পুতুল!’ CJP নেতাদের জামিন মিলতেই তোপ দিলীপের

কলকাতা: আইনি প্রক্রিয়া শেষে কদিনের আটক পর্ব কাটিয়ে রবিবার জামিনে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) তিন শীর্ষ নেতা—অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। তবে নেতাদের মুক্তি মিললেও থামেনি রাজনীতি; বরং এই রাজনৈতিক সংগঠন ও তাদের আন্দোলনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এই পুরো কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে এক ‘সুস্পষ্ট চক্রান্ত’ রয়েছে বলেই দাবি করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যন্তর-মন্তরে সিজেপি-র আন্দোলন ঘিরে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ তিন নেতাকে আটক করে। পরবর্তীতে রবিবার দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের SEM আদালতে তাঁদের পেশ করা হলে, ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং আগামী এক বছরের জন্য ‘শান্তি বজায় রাখা ও ভালো আচরণের’ শর্তে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

আইনি জট কাটিয়ে জামিন মিলতেই সিজেপিকে একহাত নেন দিলীপ ঘোষ। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এসব তো চলতেই থাকে! অনেকেরই আন্দোলন করা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। কাজ নেই তো চলো আন্দোলন করি! বিদেশি ফান্ডিং এবং নানা জায়গা থেকে রসদ পেয়ে এরা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির খেলনা হিসেবে কাজ করছে।”

দলের অস্তিত্ব ও গণভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিজেপি নেতা আরও বলেন, “হঠাৎ করে একটা নতুন দল গজিয়ে উঠল, যাদের একটাও কাউন্সিলর নেই, পঞ্চায়েত বা বিধানসভা-সংসদে কোনো প্রতিনিধি নেই—অথচ সেই দল বড় আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে! আর দেশের বড় বড় দলের নেতারাও তাদের পিছনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। এতেই পরিষ্কার বোঝা যায় এর পেছনে কোনো চক্রান্ত রয়েছে। যাদের নিজেদের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা বা পরিচিতি নেই, তাদের ওপর না সরকার ভরসা করতে পারে, না সাধারণ মানুষ। সেই কারণেই প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।”

ফের ‘যন্তর মন্তর চলো’-র ডাক, প্রস্তুত পুলিশ আইনি জট কাটিয়ে শীর্ষ নেতারা মুক্ত হতেই নতুন করে কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। রবিবারই তারা ফের ‘যন্তর মন্তর চলো’-র ডাক দিয়েছে। ফলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে রাজধানীতে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রবিবার সকাল থেকেই যন্তর-মন্তর চত্বরকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে দিল্লি পুলিশ। চারপাশের রাস্তায় কড়া ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চলেছে দফায় দফায় নজরদারি। সব মিলিয়ে সিজেপি-র এই আন্দোলনকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনা এখন চরম উত্তপ্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *