মুখ্যমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন পার! চরম হুঁশিয়ারির মুখেও বিস্ফোরক বয়ানে কেন অনড় বিকাশরঞ্জন?

বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে সম্প্রতি এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এই ঘটনায় ‘হিন্দুত্ববাদী’দের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী। তবে পোস্টে ব্যবহৃত ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দবন্ধটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জনসভা থেকে স্পষ্ট জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুক থেকে ওই শব্দটি প্রত্যাহার করতে হবে বিকাশরঞ্জনবাবুকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন প্রাক্তন সাংসদ। সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনোভাবেই পোস্ট ডিলিট করবেন না বা শব্দটি ফিরিয়ে নেবেন না।
বরং সুর আরও চড়িয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে এই ধরনের নির্দেশ দেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে? তাঁর মতে, হিন্দু ধর্ম এবং হিন্দুত্ব সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন বিষয় এবং হিন্দুত্ববাদ মূলত বহুত্ববাদের বিরোধী এক ধরনের হিংসাত্মক তত্ত্ব। হামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে একজন বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি বলেও দাবি করেন বিকাশবাবু। তিনি স্পষ্ট জানান, বিরোধী ইকো-সিস্টেম যতই কাদা ছোড়াছুড়ি বা হুঁশিয়ারি দিক না কেন, তিনি নিজের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক যুক্তিতেই অটল থাকবেন। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর ডেডলাইন উড়িয়ে বিকাশবাবুর এমন পাল্টা জবাবে রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।