স্বাস্থ্য প্রকল্পে ঐতিহাসিক বদল! অনুমতি ছাড়াই দেশের এইমস হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা

চিকিৎসার জন্য আর কেবল রাজ্যের হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হবে না রাজ্য সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের। এবার দেশের একাধিক প্রথম সারির চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করানোর সুযোগ আরও সহজ করে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে দিল্লি-সহ মোট ৬টি এইমস (AIIMS)-কে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবথেকে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এই সমস্ত হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার আগে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আর কোনো পূর্বানুমতির প্রয়োজন পড়বে না। সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যসুবিধা সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকার মাঝেই সামনে এলো এই নতুন সিদ্ধান্ত।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য প্রকল্পের বিশেষ সুবিধা রাজ্য অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের (WBHS) আওতায় এখন থেকে দিল্লি, পাটনা, গুয়াহাটি, কল্যাণী, ভুবনেশ্বর ও দেওঘরের এইমস হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যাবে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা হোক কিংবা অন্দরবিভাগে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন—উভয় ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে এই সুবিধা মিলবে।
তবে খরচ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের নির্দিষ্ট শর্ত এবং আর্থিক ঊর্ধ্বসীমা অপরিবর্তিত থাকছে। অর্থাৎ, সমস্ত চিকিৎসার খরচ রিইম্বার্সমেন্ট বা ফেরত পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে, বহির্বিভাগের (OPD) চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেবল নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত রোগগুলির জন্যই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, এইমসে যাতায়াতের জন্য কোনো যাতায়াত খরচ সরকার বহন করবে না।
স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান কার্ড ফেরানোর কড়া নির্দেশ এদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত অন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ আগেই জারি করেছে অর্থ দফতর। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত কার্ড অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই কার্ড জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের আধিকারিক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী এবং তাঁদের নথিভুক্ত পরিবারের সদস্যরাও এই নিয়মের আওতাভুক্ত।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি অন্য কোনো সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের কার্ড নিজের কাছে রাখা যাবে না। যাঁদের কাছে স্বাস্থ্যসাথী কিংবা আয়ুষ্মান ভারত—উভয় কার্ডই রয়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা জমা দিতে হবে এবং জমা দেওয়ার রসিদ বা প্রমাণপত্র সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
প্রশাসনের তরফ থেকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী বা পেনশনভোগীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি, নির্দেশ না মানলে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের অধীনে চিকিৎসা পরিষেবা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।