পুজোর আগেই মহুয়া মৈত্রকে বড় স্বস্তি! কৃষ্ণনগর সফরে পুলিশি সহায়তার কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দুর্গাপুজো ও দীপাবলির ঠিক আগে নিজের লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে নিজের এলাকায় গিয়ে প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও নানা বাধার মুখে পড়তে হওয়ায় তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। আর এই আইনি লড়াইয়েই এল বড় স্বস্তি। মহুয়ার কৃষ্ণনগর সফর যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকার মামলার জবাব দেওয়ার জন্য সময় পেলেও, এই সময়ের মধ্যে মহুয়া নিজের এলাকায় যেতে চাইলে পুলিশ ও প্রশাসনকে তাঁকে সম্পূর্ণ সাহায্য করতে হবে।
মহুয়ার সফরে পুলিশি সহায়তার নির্দেশ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা, যিনি মামলার জবাব দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়ে দেয়, আইনি জবাব দিতে সময় নেওয়া হলেও মহুয়া মৈত্রের কৃষ্ণনগর সফরে কোনো বাধা তৈরি হওয়া চলবে না। এমনকি, এই বিষয়ে রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা শুক্রবারের মধ্যে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।
শুনানিকালে দেশের সমস্ত সাংসদদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অভিন্ন নিয়ম চালুর প্রস্তাব তোলে সুপ্রিম কোর্ট। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে জানান যে, দেশের প্রায় ৮০০ জন সাংসদের জন্যই এমন একটি নিয়ম থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দেন যে, বাস্তবে বর্তমানে এই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে মূলত একজন সাংসদকেই।
সাংসদ তহবিলের কাজ ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা মহুয়া মৈত্রের মূল আবেদন ছিল, সাংসদরা যাতে নির্বিঘ্নে নিজেদের এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট যেন স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে। বিশেষ করে সাংসদ তহবিল বা এমপিল্যাডস (MPLADS)-এর অনুদান দিয়ে উন্নয়নের কাজ রূপায়িত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
মহুয়ার জোরালো দাবি, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে নিজের এলাকার কাজ করতে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। কেবলমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো সাংসদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করাও অনুচিত। প্রশাসনিক আধিকারিকরা যাতে কোনো রকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না করে সাংসদদের সফর ও উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করেন, সেই সুব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল যে, একজন সাংসদের সার্কিট হাউসে থাকার অনুমতি পাওয়ার জন্য কেন তিন দিন আগে প্রশাসনকে জানাতে হবে।
এদিকে, মহুয়ার করা এই আবেদন গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত কি না, সেই প্রশ্ন তুলে আপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে এই বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হচ্ছে না, তবে মহুয়ার নিজের এলাকায় যাতায়াত নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ওই দিনই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে মহুয়ার কৃষ্ণনগর সফর ঘিরে প্রশাসন ঠিক কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং দেশের সমস্ত সাংসদদের জন্য ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম চালু হয় কি না।