কালীপুজোর মুখে কেতুগ্রামে কাপড়ের জবা ফুলের ধুম, প্লাস্টিক বর্জনের ডাকে গৃহবধূদের মুখে উপার্জনের চওড়া হাসি

কালীপুজোর মুখে কেতুগ্রামে কাপড়ের জবা ফুলের ধুম, প্লাস্টিক বর্জনের ডাকে গৃহবধূদের মুখে উপার্জনের চওড়া হাসি

প্লাস্টিকের ওপর কড়া প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপ হতেই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ও কেতুগ্রামের হস্তশিল্পীদের সামনে খুলে গিয়েছে উপার্জনের নতুন দিগন্ত। সামনেই কালীপুজো, আর তাই পরিবেশবান্ধব কাপড়ের তৈরি লাল জবার মালা তৈরিতে ব্যস্ততা এখন চরম তুঙ্গে। স্থানীয় শাখাই গ্রাম, পানুহাট ও বনগ্রামের বহু পরিবার এই কৃত্রিম মালা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। লাল ভেলভেট কাপড়, পাট, জরি ও রেশমের সুতো ব্যবহার করে পরম যত্নে তৈরি হচ্ছে ৫১ ও ১০৮টি জবা ফুলের আকর্ষণীয় মালা। সংসারের কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে বাড়িতে বসেই এই মালা গেঁথে গৃহবধূরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। এ বছর বাড়তি বরাত মেলায় তাঁদের মুখে ফুটেছে উপার্জনের চওড়া হাসি।

কাটোয়ায় তৈরি এই ভেলভেটের জবা ফুল কেবল স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। কারিগরদের হিসাব অনুযায়ী, এক ডজন কাপড়ের মালার পাইকারি বাজারমূল্য প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। কাঠের যন্ত্র ও হাতের কাজের মেলবন্ধনে শিল্পীরা প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৫০ ডজন পর্যন্ত মালা তৈরি করছেন। যা পরে পাইকারি দরে দশকর্মার দোকানগুলিতে সরবরাহ করা হয়। প্লাস্টিক বর্জনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এই শিল্পের বিস্তার গ্রামীণ অঞ্চলের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে বড় ভূমিকা পালন করছে। উৎসবের এই মরসুমে চরম ব্যস্ততার মাঝেও ভালো লাভের আশায় প্রহর গুনছেন কেতুগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *