সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও খাদ্যদপ্তরকে সাড়ে ৫ হাজার টন চাল দেয়নি ৮টি রাইস মিল, কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য!

সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের থেকে সংগৃহীত ধান থেকে প্রস্তুত সাড়ে ৫ হাজার টনেরও বেশি চাল নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও খাদ্যদপ্তরের হাতে তুলে দেয়নি একাধিক রাইস মিল। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া চাল চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই আদায় করার জন্য বিভিন্ন জেলা প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে খাদ্যদপ্তর। দপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের পাঁচটি জেলার মোট আটটি চালকলের কাছে সরকারের প্রাপ্য রয়েছে ৫,৪৯৪ টন চাল।
হিসেব অনুযায়ী, এই বকেয়া চালের পুরোটাই রাজ্য সরকারের ‘স্টেট পুল’-এর অংশ। এর বাইরে ‘সেন্ট্রাল পুল’-এর প্রায় ৪৫৫ টন চাল এখনও বকেয়া রয়েছে, যা সরবরাহ করেনি পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি মিল। চাল সরবরাহে এমন গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই একটি চালকলের মালিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
অনাদায়ি চাল উদ্ধারে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিয়েছে খাদ্যদপ্তর। বকেয়া চাল দ্রুত জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং মিল মালিকদের গ্রেপ্তারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া পূরণ করতে না পারলে চালকলগুলির জমা রাখা ব্যাঙ্ক গ্যারান্টিও সরাসরি বাজেয়াপ্ত করবে রাজ্য সরকার।
আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই রাজ্যে ২০২৬-২৭ খরিফ বিপণন মরশুমে কৃষকদের থেকে সরাসরি ধান কেনার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হচ্ছে। সেই ধান থেকে চাল তৈরির জন্য মিলগুলির নতুন করে নথিভুক্তি প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। খাদ্যদপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে চাল না দিয়ে অনিয়ম করা এবং কালো তালিকাভুক্ত হওয়া চালকলগুলিকে কোনোভাবেই নতুন মরশুমে আর নথিভুক্ত করা হবে না।