এআই চালিত স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলার ঝুঁকি, এপিআই নিরাপত্তায় সমস্ত ব্যাংককে কড়া নজরদারিতে রাখল আরবিআই!

স্মার্টফোনের এক ক্লিকে ঋণ মঞ্জুর কিংবা ঝটপট টাকা পাঠানোর আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম মূল ভিত হলো ‘অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেস’ বা এপিআই (API)। তবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার এই সুবিধার পেছনের ফাঁকফোকরকে হাতিয়ার করেই এবার হানা দিচ্ছে হ্যাকাররা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কাজে লাগিয়ে স্বয়ংক্রিয় সাইবার হানার ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের সমস্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)।
সম্প্রতি একের পর এক সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে:
- স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI)-এর প্রায় ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
- মুম্বইয়ের দুটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFC)-এর অ্যাকাউন্ট থেকে এপিআই সংযোগে কারচুপি করে ৭০০-র বেশি জাল লেনদেনের মাধ্যমে ১৭ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়।
- এ ছাড়া একটি স্মল ফিনান্স ব্যাংকের গাড়ির ঋণগ্রহীতাদের তথ্যও ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দফায় দফায় বৈঠক করে ব্যাংকগুলিকে কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে শীর্ষ ব্যাংক। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ট-ইন (CERT-In) আগেই সতর্ক করেছিল যে, মানুষের কোনো রকম প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়াই এআই চালিত বিশেষ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ব্যাংকিং সিস্টেমের দুর্বলতা ও এপিআই পাসওয়ার্ড চিহ্নিত করছে সাইবার অপরাধীরা।
আরবিআইয়ের জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে:
- ব্যাংকগুলিকে তাদের এপিআই-এর যাবতীয় দুর্বলতা দ্রুত চিহ্নিত করে সারাই করতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট ফিনটেক সংস্থা, পেমেন্ট গেটওয়ে ও এনবিএফসি পার্টনারদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত অডিট ও যাচাই করতে হবে।
- এপিআই ব্যবহারে সার্বক্ষণিক (২৪ ঘণ্টা) নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে এবং অ্যাডমিন স্তরের অ্যাক্সেস সীমিত রাখতে হবে।
- সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লেনদেনে দুই স্তরের নিরাপত্তা (Two-factor authentication) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সাইবার সুরক্ষার নিয়ম কেবল কাগজে-কলমে মানলেই চলবে না, নিরাপত্তার বাস্তব কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ আধিকারিকরা। স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তিই যে বর্তমান ব্যাংকিং পরিষেবার সুরক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক।