ইউরেনিয়াম হাতবদলেই কি খুলবে বন্ধ পথ, আমেরিকা ও ইরানের গোপন খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধের ইতি টানার সংকেত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের উদ্বেগের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর খসড়া চুক্তি সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চুক্তির মূল শর্ত হলো ইরানকে তাদের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় অন্য কোনো দেশে পাঠাতে হবে, নয়তো সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে। এর বিনিময়ে চুক্তি স্বাক্ষরের সাত দিনের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। একই সাথে ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নৌ-অবরোধ ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে চিন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জামিনদার বা গ্যারান্টার হতে পারে।
সমঝোতার প্রক্রিয়াটি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো পক্ষ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করে, তার জন্য একটি স্বাধীন নজরদারি ও বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। সরাসরি আলোচনার লক্ষ্যে দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের হাই-ভোলেটেজ বৈঠকের আয়োজন চলছে, যেখানে কাতারের একটি দল ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতার জন্য তেহরানে পৌঁছেছে। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কাতারের মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাইয়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছেন বলেও জানা গেছে। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি, তবে উভয় পক্ষের ইতিবাচক মনোভাব দীর্ঘদিনের সামরিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।