কলকাতায় অভূতপূর্ব প্রতিবাদ! রাম-বাম ভুলে হাতে হাতে বই নিয়ে কেন পথে নামল নাগরিক সমাজ?

দুর্গাপুজোর আবহেই বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। এই হামলার তীব্র প্রতিবাদে শনিবার কলকাতার রাজপথে এক অভিনব পদযাত্রার আয়োজন করে নাগরিক সমাজ। ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে প্রথাগত রাজনৈতিক কর্মসূচির মতো কোনো দলীয় পতাকা বা উগ্র স্লোগান ছিল না। পরিবর্তে সব বয়সের মানুষের হাতে শোভা পায় তাঁদের প্রিয় বই, মনীষীদের ছবি, নানা টিফো ও প্ল্যাকার্ড। শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার, বর্ষীয়ান অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সব্যসাচী চক্রবর্তীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই ব্যতিক্রমী মিছিলে বিশিষ্ট জনদের পাশাপাশি পা মেলান সুজন চক্রবর্তী ও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো বাম নেতারাও।
মিছিল থেকে গান, কবিতা ও শিল্পকলার মাধ্যমে এই অন্যায়ের অরাজনৈতিক ও সুশীল জবাব দেওয়া হয়। প্রতিবাদের এমন অভিনব রূপকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় আখ্যা দিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানান, দেশ আগে কখনও এমন নীরব অথচ জোরালো নাগরিক প্রতিবাদ দেখেনি। অন্যদিকে কেবল মিছিলেই থেমে না থেকে, এই প্রতিবাদের রেশ ধরে এবার পাড়ায় পাড়ায় ভ্রাম্যমাণ ‘বইয়ের হাট’ ও বিপণি চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বাম নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, পুজো মণ্ডপের সামনে সনাতনী হিন্দু সংস্কৃতির বিরোধিতা করে বইয়ের দোকান দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই হামলার ঘটনায় সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সব মিলিয়ে বইকে কেন্দ্র করে কলকাতার বুকে আয়োজিত এই অভিনব ‘বই মিছিল’ এখন শহরজুড়ে এক নতুন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।