নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকোট, ইজরায়েলের মসনদে কে বসছেন এবার?

নেতানিয়াহু সরকারকে সরাতে মরিয়া ইজরায়েলের বিরোধী জোট, চলছে সরকার গঠনের প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদন: ইজরায়েলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বিরোধী জোট। হারজলিয়া শহরে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বিরোধী নেতারা ঘোষণা করেছেন যে, ২৬তম নেসেটে (পার্লামেন্ট) তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে তারা দ্রুত নতুন সরকার গঠন করতে চান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট, ইয়ার ল্যাপিড, আভিগডর লিবারম্যান এবং ইয়ার গোলানের মতো শীর্ষ নেতারা। বিরোধী জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য গাদি আইজেনকোটের নাম প্রস্তাব করা হবে। তাদের লক্ষ্য—দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নতুন নির্বাচন এড়ানো।
যৌথ বিবৃতিতে নেতারা জানান, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। তারা চারটি জাতীয় নীতির ওপর ভিত্তি করে একটি ‘জায়োনিস্ট সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে, লিকুদ পার্টি এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে ভিত্তিহীন প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে তার তীব্র নিন্দা করেছেন তারা।
সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আরব দলগুলোর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ার পক্ষে মত দিলেও, আভিগডর লিবারম্যানের মতো নেতারা আরব দলগুলোর সমর্থনের বিরোধী। লিবারম্যানের মতে, আরব দলগুলোর সাহায্য ছাড়াই স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই জোটের সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার তিনি মেনে নেবেন না। তার দাবি, লিকুদ পার্টি বৃহত্তম দল হিসেবে জনসমর্থন পেয়েছে এবং তিনি সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না এমন দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গড়তে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, ১২০ আসনের নেসেটে বিরোধী জোট ৬৭টি আসন এবং ক্ষমতাসীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন বিরোধীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ রাজনৈতিক দলগুলোকে নমনীয় হয়ে অচলাবস্থা কাটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।