সিআইডির গুলিতে মৃত সামাউল! ধুলিয়ান এনকাউন্টার কাণ্ডে এবার ময়দানে সিট!
ধুলিয়ানে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু: তদন্তে ৫ সদস্যের সিট গঠন
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় সামাউল হকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই সিট গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি অজিত সিংহ যাদব।
রাজ্য পুলিশের নির্দেশে গঠিত এই তদন্তকারী দলে রয়েছেন ফরাক্কা এসডিপিও দিবেন্দু তামাং, জঙ্গিপুর মহকুমা সার্কেল ইন্সপেক্টর স্বরূপ বিশ্বাস, সুতি থানার এসআই অভিজিৎ সরকার ও নিলেশ চন্দ্র সরকার এবং সামশেরগঞ্জ থানার এসআই মিঠুন হালদার। বর্তমানে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করছেন স্বরূপ বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত, বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন সামাউল হক। গত ২৮ আগস্ট সুজিতকে অপহরণ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের পর দেহ ফিডার ক্যানেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত ২৭ অক্টোবর এই খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে সামাউল হকের মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালানোর সময় সামাউলের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত ‘এনকাউন্টার’।
এই ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে সামাউলের স্ত্রী রাজেদা খাতুন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের বিষয়ে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু নিয়ে পুলিশের দেওয়া পালানোর তত্ত্ব ভিত্তিহীন। বর্তমানে দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন রাজেদা। তিনি সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিলেও, পরিবারটি এখনও আইনি পথে এগোনোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।