টেস্ট পরীক্ষায় প্রশ্ন করলেই কড়া শাস্তি, মাধ্যমিক স্কুলগুলোর জন্য পর্ষদের বিস্ফোরক নির্দেশিকা!

মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষায় কড়াকড়ি: প্রশ্নপত্র তৈরিতে নতুন নির্দেশিকা জারি পর্ষদের
নিজস্ব প্রতিবেদন: মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মান নিশ্চিত করতে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। মঙ্গলবার পর্ষদের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরিচালনার ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে রাজ্যের প্রতিটি স্বীকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে তাদের টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পর্ষদের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। পর্ষদের নির্ধারিত ইমেল ঠিকানায় (testpaperwbbse@gmail.com) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই প্রশ্নপত্রের স্ক্যান করা কপির পাশাপাশি এডিটেবল বা সম্পাদনাযোগ্য সফট কপি পাঠাতে হবে। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনোভাবেই পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে সফট কপি পাঠানো যাবে না।
পর্ষদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাইরের কোনো সংস্থাকে দিয়ে আর প্রশ্নপত্র তৈরি করানো যাবে না। বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করতে হবে। এছাড়া, প্রশ্নপত্র অবশ্যই পর্ষদ নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে এবং কোনো বিতর্কিত বিষয় রাখা যাবে না, যা নিয়ে রাজ্যের বা পর্ষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।
যৌথ পরীক্ষা নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে পর্ষদ। এখন থেকে একাধিক স্কুল মিলে যৌথভাবে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ আর নেই। প্রতিটি স্কুলকে স্বাধীনভাবে পর্ষদের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোনো স্কুল এই নিয়ম অমান্য করলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বহন করতে হবে এবং পর্ষদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
পর্ষদ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, প্রশ্ন জমা দিলেই তা টেস্ট পেপারে প্রকাশিত হবে— এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি প্রশ্ন কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং গুণমান নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। পর্ষদের এই নতুন নিয়মে স্কুলগুলোর নিজস্ব স্বাধীনতায় রাশ টানা হলেও পরীক্ষার প্রশ্নে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।