ট্রাম্পের ‘জিহাদি’ মন্তব্যকে বুড়ো আঙুল, মার্কিন সেনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য হলেন আবদুল!

মিশিগানসহ একাধিক রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার, ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান ভোটারদের
ওয়াশিংটন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের একাধিক দুর্গ ভেঙে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। মিশিগানসহ কানসাস, টেক্সাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান বা ‘লাল’ রাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে মার্কিন সেনেট ও প্রতিনিধি সভায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে নীল শিবির।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছেন আব্দুল এল-সায়েদ। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এল-সায়েদ তাঁর প্রচারণায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক অনটনকে মূল হাতিয়ার করেছিলেন। এছাড়া মিশিগানে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত অনুপ্রবেশবিরোধী অভিযানের (ICE Crackdown) ফলে ভোটারদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা-ও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।
নির্বাচনে জয়ের পর সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এল-সায়েদ লেখেন, “মিশিগান, যা আসাম্ভব বলা হচ্ছিল আমরা সেটাই করে দেখিয়েছি। আমরা একসঙ্গে জয়ী হয়েছি, এবার আসল কাজ শুরু।”
উল্লেখ্য, প্রচার চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মাইক রজার্স যৌথভাবে এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তাঁকে ‘চরমপন্থী’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ইজরায়েল-গাজা ইস্যুতে তাঁর অবস্থানের বিরোধিতা করে ইহুদি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টাও করেছিলেন রজার্স। তবে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহার কারণে রিপাবলিকানদের সেই কৌশল ব্যর্থ হয়।
এই ফলাফলকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জনমতের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই ‘ব্লু ওয়েভ’ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “আজ রাতে মার্কিন জনতা এক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তাঁরা এমন এক রাজনীতি চান যা বিভাজনের বদলে মানুষকে একত্রিত করে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান দেয়।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, রক্ষণশীলদের একাধিক রাজ্য হাতছাড়া হওয়া এবং ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয় বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের বিতর্কিত নীতিগুলোর বিরুদ্ধে ভোটারদের চূড়ান্ত অসন্তোষেরই প্রতিফলন।