বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোনের দাম ও ফিচার শুনলে অবাক হবেন!

বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোনের দাম ও ফিচার শুনলে অবাক হবেন!

 

মোবাইল প্রযুক্তির বিপ্লব: ৫০ বছর আগের সেই ‘ইট ফোন’ থেকে আজকের স্মার্টফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আধুনিক যোগাযোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ মোবাইল ফোন আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চালিকাশক্তি। অথচ প্রযুক্তির এই বিস্ময়কর যাত্রার সূচনা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় পাঁচ দশক আগে। ১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল মোটোরোলার প্রকৌশলী মার্টিন কুপার নিউ ইয়র্কের রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা বলে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।

সেদিন একটি প্রোটোটাইপ ব্যবহার করে কলটি করা হলেও, দীর্ঘ ১০ বছরের গবেষণার পর ১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বাজারে আসে বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোন—‘মোটোরোলা ডায়নাটক ৮০০০এক্স’ (Motorola DynaTAC 8000X)।

অদ্ভুত গঠন ও ‘ইট ফোন’ আখ্যা
বর্তমান প্রজন্মের স্লিম ও স্টাইলিশ স্মার্টফোনের সাথে এর কোনো মিলই ছিল না। বিশাল আয়তাকার এই ফোনটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫.৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ছিল প্রায় ৭৯০ গ্রাম। মাথায় থাকা বড় অ্যান্টেনাসহ এর অদ্ভুত ও ভারী গড়নের কারণে তৎকালীন মানুষ একে মজা করে ‘ইট ফোন’ বা ‘ব্রিক ফোন’ বলে ডাকত। পকেটে রাখা তো দূরের কথা, এটি বহন করাও ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।

বিলাসবহুল দাম ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা
বাজারে আসার সময় ফোনটির দাম ছিল ৩,৯৯৫ মার্কিন ডলার, যা তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত চড়া ও বিলাসবহুল ছিল। ফলে শুধুমাত্র শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরাই এটি ব্যবহারের সুযোগ পেতেন। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে এতে আজকের স্মার্টফোনের মতো ক্যামেরা, ইন্টারনেট বা টাচস্ক্রিনের কোনো বালাই ছিল না; ছিল কেবল নম্বর সেভ এবং রিডায়ালের সুবিধা।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো এর ব্যাটারি সক্ষমতা। একবার পূর্ণ চার্জ দিতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগত, অথচ সেই চার্জে টানা কথা বলা যেত মাত্র ৩০ মিনিট।

প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উত্তরণ
১৯৭৩ সালের সেই প্রথম কল থেকে আজকের স্মার্টফোন—প্রযুক্তির এই বিবর্তন এক অভাবনীয় গল্প। ৭৯০ গ্রাম ওজনের একটি সাধারণ টেলিফোন যন্ত্র আজ পরিবর্তিত হয়েছে কয়েক মিলিমিটার পুরু শক্তিশালী কম্পিউটারে। ছবি তোলা, ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে গ্লোবাল ম্যাপ—মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের তাবৎ তথ্য এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে মোবাইল ফোন কেবল কথা বলার যন্ত্র থেকে রূপান্তরিত হয়েছে জীবনের প্রধান অবলম্বন ও প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ম্যাজিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *