ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের ওপর হামলা! নেপথ্যে কি বড় কোনো চক্র?

ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের ওপর হামলা! নেপথ্যে কি বড় কোনো চক্র?

 

সীমান্তে পাচার রুখতে গিয়ে আক্রান্ত বিএসএফ, গ্রেপ্তার ১০

নিজস্ব প্রতিবেদন, আগরতলা: ত্রিপুরার বক্সানগর ও সোনামুড়া সীমান্ত এলাকায় পাচার রুখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রবল বাধার মুখে পড়লেন বিএসএফ জওয়ানরা। সোমবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত পাচারকারীদের হাতেনাতে ধরার পর।

পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে খবর, সোমবার ওই সীমান্ত দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অবৈধ পণ্য পাচারের সময় জওয়ানরা এক ভারতীয় পাচারকারীকে পাকড়াও করেন। এই ঘটনায় সীমান্তের ওপারে থাকা পাচারকারীরা পালিয়ে গেলেও, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এর পরেই লাঠি ও বাঁশ নিয়ে জওয়ানদের ঘিরে ফেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি দল, যার মধ্যে বহু মহিলাও ছিলেন। খবর পেয়ে বিএসএফ ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ১০ জনের মধ্যে ৭ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তের এই এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত। সীমান্ত বেড়া না থাকা ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে এখানে গরু, মাদক ও গাঁজা পাচার চলে। গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সীমান্ত অপরাধের সিন্ডিকেটগুলি প্রায়শই গ্রামবাসীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। বিএসএফ পাচার রুখতে কঠোর হলেই গ্রামবাসীদের উসকে দিয়ে জওয়ানদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর কৌশল নেওয়া হয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, সোনামুড়া-কলমচৌড়া সীমান্তে সক্রিয় পাচারকারীদের সঙ্গে শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে। অপরাধীদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

পাল্টা জবাবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অনেকটা অংশই দুর্গম। এই অঞ্চলে একদিকে যেমন পাচার রোখা বিএসএফ-এর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই কড়াকড়ির ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াতেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই টানাপোড়েনই বারবার অনভিপ্রেত ঘটনার ক্ষেত্র তৈরি করছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। বর্তমানে এলাকাটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *