রাস্তা আটকে মণ্ডপ! দমদম রোডে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের!

রাস্তা আটকে মণ্ডপ! দমদম রোডে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের!

 

রাস্তায় মণ্ডপ তৈরিতে বাধা, দমদমের ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো সরানোর নির্দেশ প্রশাসনের

নিজস্ব প্রতিবেদন, দমদম: যানজট নিরসনের অজুহাতে দমদম রোডে দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে চলে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো মণ্ডপ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিল প্রশাসন। গত শনিবার আচমকা পুলিশি হস্তক্ষেপে মণ্ডপ তৈরির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কয়েক জন কর্মীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় স্তরে তীব্র ক্ষোভ ও তরজা শুরু হয়েছে।

দমদম স্টেশন থেকে নাগেরবাজারগামী দমদম রোডের দু’পাশের গলিতে প্রতি বছর একাধিক কালীপুজোর আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে এই পুজো হওয়ার ফলে প্রবল যানজট তৈরি হয়। গত বছর স্থানীয় কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দাগা কলোনি লাগোয়া ‘আমরা মিলেছি’ ক্লাবের পুজো বন্ধ করে পাশের পুজোর সঙ্গে একীভূত করে দেওয়া হয়েছিল।

এবার ৫৭ বছরে পদার্পণকারী ‘খামখেয়ালি সংঘ’-এর পুজো নিয়েও একই পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। রাজীব ভবন সংলগ্ন দমদম রোডের ওপর এবারেও বড়সড় থিমের মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু মণ্ডপের অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার পর শনিবার পুলিশ নির্দেশ দেয়, মূল রাস্তায় পুজো করা যাবে না। এরপর বাধ্য হয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ মণ্ডপের কাঠামো খুলে পাশের ঘোষপাড়া গলিতে স্থানান্তরিত করে সেখানে ছোট পরিসরে পুজোর আয়োজন করছে।

ক্লাব সদস্যদের আক্ষেপ, গত ৫৬ বছর ধরে বাম ও তৃণমূল—উভয় আমলেই এখানে নির্বিঘ্নে পুজো হয়েছে। সাত দিন ধরে মণ্ডপ তৈরির কাজ চলার সময় বা খুঁটিপুজোর দিন পুলিশ বা প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। অথচ শেষ মুহূর্তে এমন কড়াকড়ি মেনে নেওয়া কঠিন। ক্লাবের সভাপতি পিন্টু ঘোষ বলেন, “প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব। কিন্তু আগেভাগে জানানো হলে মণ্ডপ তৈরি, ভাঙা ও ফের নতুন জায়গায় গড়ার এই বাড়তি ঝক্কি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে আমাদের পড়তে হতো না।”

অন্যদিকে, এই বিষয়ে দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি বলেন, “এটি বহু দশকের একটি সমস্যা। সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বছর পরিকল্পনা করেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি, এ বছর মূল সড়ক থেকে মণ্ডপ সরিয়ে জনস্বার্থেই কাজ করা হয়েছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *