স্বামী না ফেরায় বন্ধ শতাব্দী প্রাচীন পুজো, বিষাদে ডুবল পরিবার!

তিন মাস ধরে ওপারে বন্দি পরিবারের কর্তা, বিষাদময় কালীপুজো জলপাইগুড়ির গোপ পরিবারে
জলপাইগুড়ি: স্বজনহারা পরিবারে এবার উৎসবের কোনো আমেজ নেই। স্বামী বা বাবা ঘরে না ফেরা পর্যন্ত উৎসবে সামিল হতে নারাজ জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের চাউলহাটির তসরপাড়ার গোপ পরিবার। প্রায় তিন মাস ধরে বাংলাদেশের জেলে বন্দি পরিবারের কর্তা দীপঙ্কর গোপ। তাঁর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ আগস্ট। ওইদিন ভারতীয় ভূখণ্ডের চা বাগানে কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে নিখোঁজ হন দীপঙ্কর। পরিবারের অভিযোগ, ওপার বাংলার একদল দুষ্কৃতী তাঁকে অপহরণ করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তিনি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলখানায় বন্দি।
পরিবারের দাবি, গত ৬ আগস্ট বিএসএফ তজিমুদ্দিন ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি চোরাচালানকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। সেই চোরাচালানকারীকে ছাড়িয়ে আনতেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দীপঙ্করকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের স্পষ্ট শর্ত, ভারতীয় জেল থেকে তজিমুদ্দিনকে মুক্তি দিলেই ফিরতে পারবেন দীপঙ্কর।
এই চরম অস্থিরতার মধ্যে দীপঙ্করের বৃদ্ধ বাবা মিশ্রীলাল গোপ, স্ত্রী মহামায়া এবং দুই নাবালক সন্তানের দিন কাটছে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায়। দীপঙ্করের স্ত্রী মহামায়া বলেন, “আমার স্বামী তিন মাস ধরে বিদেশের জেলে বন্দি। আমাদের বাড়ির বাৎসরিক কালীপুজো এবার আর হবে না। ছোট ছেলেটা বাবার কথা জানতে চায়, কিন্তু আমার কাছে কোনো উত্তর নেই।”
দীপঙ্করের ভাই শুভঙ্কর গোপ জানান, তাঁদের পরিবারে বংশপরম্পরায় হয়ে আসা শতবর্ষের প্রাচীন এই কালীপুজো এবারই প্রথম বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উৎসবের আবহেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় জানিয়েছেন, দীপঙ্করকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।” প্রশাসনিক আশ্বাসের দিকে তাকিয়ে এখন প্রহর গুনছে গোপ পরিবার, কবে দীপঙ্কর ফিরবেন তাঁদের মাঝে।