জোট নিয়ে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ, কী বললেন ঋতব্রত?

পশ্চিমবঙ্গে কি সম্ভব তৃণমূল-কংগ্রেস-সিপিএমের জোট? তুঙ্গে জল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং সিপিএমের মধ্যে কোনো জোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্যে বিজেপির মোকাবিলায় এই তিন দল কি আদৌ একজোট হতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই প্রেক্ষাপটে পুরনো রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে আলোকপাত করছেন অনেকে। ২০১১ সালে তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোটে বামফ্রন্টের পরাজয় ঘটেছিল। আবার ২০১৬ সালে সিপিএম ও কংগ্রেসের জোটে দেখা গিয়েছিল, বামেদের ভোট কংগ্রেসের বাক্সে স্থানান্তরিত হলেও কংগ্রেসের ভোট সেভাবে সিপিএমের দিকে যায়নি। এই অভিজ্ঞতার নিরিখে এবারও জোটের সমীকরণ নিয়ে সংশয় কাটছে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে একটি ‘অলিখিত জোট’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে যে ওয়ার্ডে যে দলের প্রার্থী শক্তিশালী, বাকিরা হয়তো তাঁকেই সমর্থন জানাবে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করেনি।
ইতিমধ্যে এই জোট-সমীকরণ নিয়ে শাসকদলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও সঙ্গী বদলের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “১৯৯৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনো বিজেপি, কখনো কংগ্রেসের হাত ধরেছেন। তাঁর রাজনীতি কেবল স্রোতে গা ভাসানো।”
পালটা জবাবে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কুণাল ঘোষের মন্তব্য, “যাঁরা বিজেপির হয়ে কাজ করছেন, জোট-রাজনীতি নিয়ে তাঁদের মুখে এই ধরনের কথা মানায় না।”
পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত কোনো বোঝাপড়া বা জোটের রূপরেখা এখনও পর্যন্ত অস্পষ্টই রয়ে গেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত ভোটের ময়দানে বিরোধী শিবিরের এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।