সন্ধ্যায় মদের নেশায় বুঁদ মুখ্যমন্ত্রী! ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন: আপ ও বিজেপিকে নিশানা করে সাঙ্গরুরে হুঙ্কার রাহুলের
নিজস্ব প্রতিবেদন, সাঙ্গরুর: আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পাঞ্জাবের সাঙ্গরুরে আয়োজিত ‘ইনসাফ র্যালি’ থেকে আম আদমি পার্টি (আপ) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের মদ্যপান এবং মাদক সমস্যা নিয়ে করা রাহুলের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন
সাঙ্গরুরের সভায় রাহুল গান্ধী অতীতে লোকসভার সদস্য থাকাকালীন ভগবন্ত মানের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁর অভিযোগ, সাংসদ থাকাকালীন বেলা ১১টার মধ্যেই মানের নিঃশ্বাসে মদের গন্ধ পাওয়া যেত। রাহুলের স্পষ্ট বক্তব্য, ব্যক্তিগত জীবনে মদ্যপান নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু পাঞ্জাবে যখন মাদকাসক্তি একটি বড় সমস্যা, তখন মুখ্যমন্ত্রী যদি প্রতি সন্ধ্যায় নেশাগ্রস্ত থাকেন, তবে তিনি কীভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন? পাঞ্জাবের এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা বোঝেন, এমনটাই দাবি করেন রাহুল।
রাহুলের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি রাহুলের এই মন্তব্যকে ‘নিম্নরুচির ব্যক্তিগত আক্রমণ’ বলে অভিহিত করে বলেন, নির্বাচন এগিয়ে আসতেই বিজেপি ও কংগ্রেস পাঞ্জাবকে রাজনৈতিক নিশানা করছে।
অমিত শাহ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তোপ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিন বছরে পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতিকেও এদিন বিদ্রূপ করেন রাহুল। তিনি বলেন, “আগামী বছরই এই সরকার (বিজেপি) ক্ষমতায় থাকবে না, তাই তিন বছরের প্রতিশ্রুতি অর্থহীন।” এছাড়া রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সরব হয়ে রাহুল বলেন, সিধু মুসেওয়ালার মতো গায়কের প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রমাণ করে অপরাধীদের মনোবল বেড়েছে। সভায় মুসেওয়ালার বাবা বলকৌর সিং সিধুকে মঞ্চে ডেকে একাত্মতা প্রকাশ করেন তিনি।
দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত সরকারের অভিযোগ
পাঞ্জাব সরকার বর্তমানে দিল্লি থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার অমিত শাহ এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নিয়ন্ত্রণে চলছে, অথচ পাঞ্জাবের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ সরকারের প্রয়োজন। এছাড়া, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কৃষি সমস্যা এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা বিতর্কের চ্যালেঞ্জও জানান তিনি। একইসঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে আম আদমি পার্টিকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, ভগবন্ত মানের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাঙ্গরুর এবং মালওয়া অঞ্চলকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস এখন থেকেই নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। পাঞ্জাবের মোট ১১৭টি আসনের মধ্যে ৬৯টি আসন এই মালওয়া অঞ্চলেই অবস্থিত, যে কারণে এই জনসভাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।