ধনতেরাসের উৎপত্তি কি জানেন? ৯৯% মানুষই জানেন না এই রহস্য!

ধনতেরাসের উৎপত্তি কি জানেন? ৯৯% মানুষই জানেন না এই রহস্য!

 

ধনতেরাস: তাৎপর্য, পৌরাণিক কাহিনি ও উৎসবের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরাস। ‘ধন’ অর্থাৎ সম্পত্তি এবং ‘তেরাস’ অর্থাৎ ত্রয়োদশী— এই দুই শব্দের সমন্বয়ে উৎসবটির নামকরণ করা হয়েছে। ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধি কামনায় আয়োজিত এই উৎসব ‘ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী’ নামেও পরিচিত।

পৌরাণিক প্রেক্ষাপট
পুরাণ অনুযায়ী, সমুদ্রমন্থনের সময় ধনের দেবতা ধন্বন্তরী আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর এক হাতে ছিল অমৃত কলস এবং অন্য হাতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। এই কারণেই দিনটি ধন্বন্তরী ত্রয়োদশী হিসেবে পালিত হয়। অনেক ভক্ত এই দিনটিকে দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাবের সঙ্গেও যুক্ত করে থাকেন।

প্রচলিত কাহিনি
ধনতেরাসকে ঘিরে রয়েছে রাজা হিমুর পুত্রের জীবন রক্ষার একটি লোকগাথা। কথিত আছে, বিয়ের চার দিনের মাথায় সাপের কামড়ে রাজপুত্রের মৃত্যুর যোগ ছিল। তাঁর স্ত্রী স্বামীকে বাঁচানোর লক্ষ্যে সারা রাত প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন এবং দরজার সামনে সোনা-রুপোর গয়না ও মুদ্রা সাজিয়ে রাখেন। যমরাজ যখন নিতে আসেন, তখন সোনা-রুপোর ঝিলিক এবং রাজকন্যার গান ও গল্পে মুগ্ধ হয়ে তিনি প্রাণ না নিয়ে ফিরে যান। সেই থেকে অকাল মৃত্যু এড়াতে ও সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় ধনতেরাসে প্রদীপ জ্বালানোর রীতি প্রচলিত।

উৎসবের তাৎপর্য ও রীতিনীতি
ধনতেরাসের দিনে নতুন সোনা-রুপোর গয়না কেনা এবং সম্পদের আরাধনাকে শুভ বলে মনে করা হয়। ব্যবসায়ীরা এদিন বিশেষ করে ধনকুবেরের পুজো করে থাকেন। বিশ্বাস করা হয়, যারা এই দিনে নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পদের শ্রদ্ধা করেন এবং কেনাকাটা করেন, দেবী লক্ষ্মী তাঁদের ঘরে প্রবেশ করেন ও অভাব দূর করেন।

সামনে কালীপুজো ও দীপাবলিকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবের আমেজ তুঙ্গে। অনেক ক্ষেত্রে ধনতেরাসের দিনক্ষণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে। শাস্ত্রীয় গণনা ও নির্ঘণ্ট মেনে উৎসব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আপামর দেশবাসী। এই দিনে অশুভ ও নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচকতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টাই মুখ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *