এন্টালিতে ১২ বছরের শিশুকে আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতন, কাঠগড়ায় প্রতিবেশী!

এন্টালিতে ১২ বছরের শিশুকে আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতন, কাঠগড়ায় প্রতিবেশী!

 

প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে নাবালককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, পলাতক অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: এন্টালি থানা এলাকায় এক ১২ বছর বয়সী নাবালককে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বর্তমানে নির্যাতিত বালককে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ বছর বয়সী ওই নাবালক গত সোমবার বিকেলে ট্যাংরা এলাকায় প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তে গিয়েছিল। সাধারণত রাত ৯টার মধ্যে সে বাড়ি ফিরে এলেও এদিন রাত ১০টা পার হয়ে গেলেও সে ফেরেনি। চিন্তিত পরিবারের লোকজন শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকেই ছাত্রটি বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়েছিল।

খোঁজখবর নেওয়ার সময় এক স্থানীয় যুবক নাবালকের বাবাকে জানান যে, ছেলেটিকে প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে দেখা গেছে। এরপর পরিবারের লোকজন দ্রুত ওই যুবকের বাড়িতে পৌঁছান। দীর্ঘক্ষণ দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পর অভিযুক্ত যুবক দরজা খোলে এবং নাবালককে উদ্ধার করা হয়। তখন অভিযুক্ত যুবক দাবি করেছিল, রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্যই সে ছেলেটিকে ডেকে এনেছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রাথমিকভাবে পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারেননি।

বাড়ি ফেরার পর থেকেই নাবালকটি অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। মঙ্গলবার সারাদিন সে খাওয়া-দাওয়া করেনি। রাতেও খাবার খেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিভাবকরা তাকে বকাবকি করেন। তখনই সে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারের কাছে জানায়, ওই প্রতিবেশী যুবক তাকে বাড়িতে আটকে রেখে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যৌন নির্যাতন করেছে। পাশাপাশি, এই কথা কাউকে জানালে পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে বলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হলে সে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর নাবালকের বাবা এন্টালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্যাতিত বালকের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাকে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাখা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতারের জন্য জোর তল্লাশি চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *