ডিসেম্বরেই কি দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, নাকি এটি নিছকই গুঞ্জন!

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অস্পষ্টতা ও সংশয় তৈরি হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আইনি প্রক্রিয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেখ হাসিনা নিজে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ একে কেবল কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে এবং চরম প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে তার দেশে ফেরার ঝুঁকি নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
আইনি জটিলতা ও প্রত্যার্পণ চুক্তির সীমাবদ্ধতা
আইনগতভাবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে বিএনপি সরকার ভারতের সাথে থাকা প্রত্যার্পণ চুক্তির ওপর নির্ভর করতে চাইছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, এ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। ভারতের সাথে ২০১৩ সালের স্বাক্ষরিত চুক্তিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির অভিযোগে অনুরোধ খারিজ করার সুযোগ রয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, ভারত তাকে রাজনীতিক হিসেবে আশ্রয় দিয়েছে, তাই তাকে অপরাধী হিসেবে হস্তান্তরের সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের আবেদন করা হলে বর্তমান সরকার তা অনুমোদন করবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিষয়টি কেবল আইনি নয়, সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপরও অনেকাংশে নির্ভরশীল।
রাজনীতির মাঠ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ পুরোপুরি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে। আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। এর ওপর ৬৬৩টি মামলার বোঝা, যার মধ্যে ৪৫৩টিই হত্যা মামলা এবং একটিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে—শেখ হাসিনার জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আইনি বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, নেত্রী দেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধীদের দাবি, শেখ হাসিনা নিজে ব্যক্তিগত কোনো ঝুঁকির পথে না গিয়ে নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করছেন মাত্র।
ভূ-রাজনীতি ও ডিসেম্বরের শঙ্কা
শেখ হাসিনার অবস্থান ও তার ফেরার প্রক্রিয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে দেশের রাজনীতিতে নানা আলোচনা চলছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, এ বিষয়ে ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। ডিসেম্বর মাস ঘনিয়ে আসায় সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো উস্কানিমূলক তৎপরতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে সরকার কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে, যার সমাধান নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।