বাবরের নামে মসজিদ হবে না! মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

বাবরের নামে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক: মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি হুমায়ুন কবিরের
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজ্যের একটি জমিতে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জমিটির মিউটেশন ও কনভার্সন আটকে থাকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে, মসজিদের নামকরণে ‘বাবর’-এর নাম ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, নিয়ম মেনে জমি কেনা সত্ত্বেও প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে মিউটেশন ও কনভার্সনের কাজ থমকে আছে। তিনি বলেন, “আমাদের ট্রাস্টের কাজে দীর্ঘসময় ধরে অবহেলা করা হচ্ছে এবং প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না।”
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, বাবরের নাম জড়িয়ে থাকলে কোনো নির্মাণ কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিজের জমিতে যে কেউ মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা গুরুদ্বার তৈরি করতে পারেন, তা সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু বাবর ভারতের কেউ ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিদেশি লুটেরা। তাই তাঁর নামে কোনো কিছুর অনুমতি দেওয়া হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, হুমায়ুন কবির এখনও পর্যন্ত যথাযথ ‘প্ল্যান অ্যাপ্রুভাল’ জমা দেননি। তাঁর কথায়, “জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া আছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা পড়লেই দ্রুত অনুমতি মিলবে। তবে শর্ত একটাই—বাবরের নাম সরাতে হবে। নাম পরিবর্তন করলে অন্য যেকোনো নামে মসজিদ নির্মাণে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবির পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “নির্মাণকাজ শুরু করতে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। নামকরণের বিষয়টি নির্মাণের শেষে আসে। মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক পদে থাকায় তাঁর মতামতের গুরুত্ব আছে, কিন্তু নামকরণের বিষয়টি তখন বিবেচনা করা যাবে।”
প্রশাসনিক জটিলতা না মিটলে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন হুমায়ুন কবির। সব মিলিয়ে, মসজিদ নির্মাণ ও তার নামকরণ ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে।