জনগণনার জেরে পিছিয়ে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা!

জনগণনার জেরে পিছিয়ে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা!

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে: জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য রুটিন এবং সময়সূচি নিয়ে আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। বুধবার শিক্ষামন্ত্রী জানান, পর্ষদের প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পরীক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভরতি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না এবং যথাসময়েই ফল প্রকাশ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

নির্বাচন ও জনগণনার মতো প্রশাসনিক কাজে শিক্ষকদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজ্যে প্রায় চার লক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক মানবসম্পদ থাকায় বিভিন্ন সরকারি কাজে তাঁদের প্রয়োজন হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবকে বিষয়টি জানানো হয়েছে যাতে যথাসম্ভব কম শিক্ষককে এই কাজে যুক্ত করা হয়। যদিও মন্ত্রীর এই বক্তব্যে শিক্ষক মহলে অসন্তোষ রয়ে গেছে, তাঁরা নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতেই অনড়।

শিক্ষার গুণগত মান ও পাঠ্যক্রম নিয়ে একাধিক নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্য সরকার তৃতীয় ভাষার (সংস্কৃত, হিন্দি, আরবি) বই সরবরাহ করবে। এছাড়া পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য নতুন কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি পাঠ্যক্রম চালু করা হচ্ছে। এতে কোডিং, ডেটা সায়েন্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রাথমিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এই বিষয়ের ওপর পরীক্ষাও নেওয়া হবে। নতুন পাঠ্যবইতে সংবিধানের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ অংশ মুদ্রিত থাকবে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনরত টেট উত্তীর্ণ এবং অস্থায়ী শিক্ষকদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। প্রাথমিক স্তরে নতুন শূন্যপদ যুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনরতদের তিনি জানিয়েছেন, আইনি জটিলতার কারণে এটি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কর্মরত শিক্ষকদের উচ্চতর পরীক্ষায় বসা আটকানোর দাবিও তিনি খারিজ করে দিয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিকের পার্ট-টাইম শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধি বা স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোনো আশ্বাস না দিয়ে তিনি জানান, এই শিক্ষকদের নিয়োগ স্কুলের মাধ্যমে হওয়ায় সরকারের সরাসরি কিছু করার নেই। তবে তিনি মন্তব্য করেন, অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ী করা হলে দীর্ঘ মেয়াদে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *