ট্রাম্প প্রশাসনে বড় রদবদল? পদত্যাগের গুঞ্জনে তোলপাড় হোয়াইট হাউজ!

ইরান যুদ্ধ ও নির্বাচনী বিপর্যয়: চাপে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ, পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন রুবিও
ওয়াশিংটন ডিসি: মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় তার ভূমিকা ও এর ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবকে কেন্দ্র করে তাকে অপসারণের জন্য দলের অভ্যন্তরেই জোর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী এক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার হুমকি দিয়েছেন। রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি জানিয়েছেন, তিনি এই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ম্যাসি পরামর্শ দিয়েছেন যে, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস গঠিত হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্টের উচিত হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া।
এই পরিস্থিতির মুখে এক ভিডিও বার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তার কর্মকাণ্ডের জোরালো সমর্থন করেছেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ ও ‘ব্যক্তিগত ধ্বংসের রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “তারা আমাদের আক্রমণ করছে কারণ আমরা কাজ করতে সক্ষম। আমরা পিছু হটব না।”
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথের প্রশংসা করে তাকে স্বপদে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।” একইসঙ্গে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং চলমান ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে হেগসেথের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের কৌশলগত নির্দেশনায় ভূমিকা রাখা জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পরিবর্তনের কথা ভাবছেন ট্রাম্প।
এদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন জোরালো হলেও তা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে রুবিও বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করাই তার পরিকল্পনা। হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরও রুবিওর পদত্যাগের খবরকে ‘ভুয়া’ বলে নাকচ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরান যুদ্ধকে বড় ধরনের পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ফলাফলের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট—উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক চাপ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।