নেতাজির ছবি টাঙানোর নিয়মে বড় বদল, জেনে নিন নতুন নির্দেশিকা!

সরকারি দপ্তরে নেতাজির ছবি ব্যবহারের নতুন নির্দেশিকা: শুরু বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের সরকারি কার্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম জারি করল রাজ্য সরকার। এখন থেকে নেতাজির পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত নির্দিষ্ট প্রতিকৃতিটিই সরকারি দপ্তরে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে।
গত মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ সমস্ত সরকারি দপ্তরে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়। বুধবার শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি বলেন, পরিবারের নির্ধারিত ছবিটি যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে প্রদর্শন করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি দপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশিষ্ট স্থানে এই ‘অনুমোদিত’ প্রতিকৃতিটি রাখতে হবে।
তবে সরকারি এই সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকার ভাষা নিয়ে শিক্ষামহল এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। নির্দেশিকায় ‘অনুমোদিত ছবি’ (Approved Photo) শব্দবন্ধটি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার নির্দিষ্ট কোন ছবিটিকে ‘অনুমোদিত’ হিসেবে চিহ্নিত করছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের নেতাজি সংক্রান্ত মন্তব্য এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে সরকারের এই পদক্ষেপকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে নারাজ অনেকে।
অন্যদিকে, শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন। তবে তাঁর মতে, কেবল ছবি টাঙানোই যথেষ্ট নয়, সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নেতাজির আদর্শকে বাস্তবায়িত করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, নেতাজির প্রতিকৃতি প্রদর্শন নিয়ে সরকারের এই নতুন নির্দেশিকা ও তার পরবর্তী শব্দচয়ন ঘিরে নতুন করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে।