বাজি রপ্তানিতে কেন এত পিছিয়ে ভারত, কোটি কোটি টাকা হাতছাড়া হচ্ছে কেন?

বাজি রপ্তানিতে কেন এত পিছিয়ে ভারত, কোটি কোটি টাকা হাতছাড়া হচ্ছে কেন?

 

বিশ্বের বাজি বাজারে নামমাত্র উপস্থিতি ভারতের, আধিপত্য চিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজি রপ্তানির বাজারে ভারতের অবদান অত্যন্ত নগণ্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত থেকে বছরে ১০ লাখ ডলারের কম মূল্যের বাজি বিদেশে রপ্তানি হয়, যা বিশ্ব বাজারের মাত্র ০.০৪২ শতাংশ। অন্যদিকে, এই খাতে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে চিন।

জাতিসংঘের ‘ইউএন কমট্রেড’ (UN Comtrade)-এর তথ্য অনুযায়ী, চিন প্রতি বছর গড়ে ১.১ থেকে ১.২৩ বিলিয়ন ডলারের বাজি বিদেশে রপ্তানি করে। চিনের হুনান প্রদেশের লিউয়াং শহর বিশ্ব বাজি উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু, যা একাই বিশ্ব রপ্তানির ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। কম উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও সরকারি সহযোগিতার কারণে চিন বিশ্ব বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে।

ভারতের বাজি শিল্পের প্রাণকেন্দ্র তামিলনাড়ুর শিবকাশী। দেশের মোট উৎপাদনের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই এখানে তৈরি হয়। ‘তামিলনাড়ু ফায়ারওয়ার্কস অ্যান্ড অ্যামোর্সেস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (TANFAMA)-এর তথ্যমতে, শিবকাশীর কারখানা স্তরের ব্যবসার পরিমাণ প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা। এই শিল্পের আয়ের ৮০ শতাংশই আসে দীপাবলি উৎসবের আগের ও পরের ৩০ দিনে। এছাড়া কেরলের বিষু এবং মহারাষ্ট্রের গণেশ চতুর্থীতেও বাজির ব্যাপক চাহিদা থাকে।

বিশ্ব বাজারে ভারতের পিছিয়ে থাকার পেছনে বেশ কিছু বড় বাধা চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক সামগ্রী হওয়ায় এর পরিবহন, প্যাকেজিং, বিমা এবং বন্দরে হ্যান্ডলিং খরচ অত্যন্ত বেশি। এছাড়া ভারতীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। শিবকাশীর বাজি শিল্পকে প্রশাসনিকভাবে ‘রেড ক্যাটাগরি’ বা অত্যন্ত বিপজ্জনক শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর ওপর ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বেরিয়াম নাইট্রেটের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানের বাজি তৈরির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, প্যাকেজিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রপ্তানি নীতি সহজীকরণ করা সম্ভব হলে তবেই ভারতের বাজি শিল্প বিশ্ব বাজারে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *