NHAI-এর নতুন নিয়ম: হাইওয়েতে গাড়িতে ওজন বেশি হলেই বিপদ, দিতে হবে কয়েক গুণ বেশি টোল ট্যাক্স

NHAI-এর নতুন নিয়ম: হাইওয়েতে গাড়িতে ওজন বেশি হলেই বিপদ, দিতে হবে কয়েক গুণ বেশি টোল ট্যাক্স

জাতীয় মহাসড়কে বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আজ থেকে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় ওভারলোডিং বা অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন রোধে ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে অত্যন্ত কঠোর এক ব্যবস্থা। এখন থেকে মহাসড়কে ক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করে গাড়ি চালানো কেবল ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং আর্থিকভাবেও চরম ব্যয়বহুল হতে চলেছে।

অতিরিক্ত ওজনে দিতে হবে কয়েক গুণ মাসুল

নতুন নিয়মে জরিমানার অংকটি নির্ধারণ করা হয়েছে অতিরিক্ত ওজনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে। এর ফলে চালক বা মালিকদের পকেট থেকে বিশাল অংকের অর্থ খসবে। জরিমানার হারগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • ১০ শতাংশ পর্যন্ত ওভারলোড: গাড়ির ধারণক্ষমতার চেয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ওজন থাকলে বর্তমানে কোনো বাড়তি জরিমানা দিতে হবে না।
  • ১০ থেকে ৪০ শতাংশ ওভারলোড: যদি গাড়ির ওজন নির্ধারিত সীমার ১০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে বেশি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজায় দ্বিগুণ হারে টোল দিতে হবে।
  • ৪০ শতাংশের বেশি ওভারলোড: গাড়ির সক্ষমতার চেয়ে ৪০ শতাংশের বেশি ওজন পাওয়া গেলে সরাসরি চার গুণ টোল ট্যাক্স আদায় করা হবে।

চলন্ত অবস্থাতেই শনাক্ত হবে গাড়ির ওজন

এখন থেকে ওভারলোড গাড়ি ধরার জন্য টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বা গাড়ি থামানোর আর কোনো প্রয়োজন পড়বে না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।

  • ওয়ে-ইন-মোশন প্রযুক্তি: মহাসড়কে ‘ওয়ে-ইন-মোশন’ (Way-in-Motion) মেশিন বসানো হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চলন্ত অবস্থাতেই গাড়ির ওজন রেকর্ড করা সম্ভব হবে।
  • ফাস্ট্যাগ থেকে সরাসরি জরিমানা: সিস্টেম যখনই কোনো গাড়িতে অতিরিক্ত ওজন শনাক্ত করবে, জরিমানার নির্ধারিত টাকা সরাসরি ওই গাড়ির ফাস্ট্যাগ (FASTag) অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে। এতে ম্যানুয়াল কারচুপি বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।
  • বাহন ডাটাবেসে নথিভুক্তি: নিয়ম ভঙ্গকারী গাড়ির তথ্য তৎক্ষণাৎ সরকারি পোর্টাল ‘বাহন’-এ নথিভুক্ত হয়ে যাবে। বারবার একই ভুল করলে গাড়ির পারমিট বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

পরিবহন ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের প্রভাব

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মহাসড়কের স্থায়িত্ব রক্ষা এবং দুর্ঘটনা হ্রাস করা। অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ট্রাক কেবল রাস্তারই ক্ষতি করে না, বরং ব্রেক ফেল হওয়া বা উল্টে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি পণ্য পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একঝলকে

  • কার্যকরের তারিখ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬।
  • প্রযুক্তি: চলন্ত অবস্থায় ওজন পরিমাপক ‘ওয়ে-ইন-মোশন’ মেশিন।
  • জরিমানা আদায়: সরাসরি ফাস্ট্যাগ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা হবে।
  • সর্বোচ্চ জরিমানা: ওজনের পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি হলে ৪ গুণ টোল।
  • প্রভাব: মহাসড়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *