মাসে দু’বার পিরিয়ড? সাধারণ ঘটনা নাকি বড় কোনো অসুখের ইঙ্গিত? জেনে নিন আসল কারণ

মাসে দু’বার পিরিয়ড? সাধারণ ঘটনা নাকি বড় কোনো অসুখের ইঙ্গিত? জেনে নিন আসল কারণ

নারীর শারীরিক সুস্থতার অন্যতম প্রধান নির্দেশক হলো নিয়মিত ঋতুচক্র বা পিরিয়ড। সাধারণত মাসে একবার পিরিয়ড হওয়া স্বাভাবিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হলেও অনেক সময় দেখা যায় এক মাসেই দুইবার পিরিয়ড হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একটি সুস্থ ঋতুচক্র সাধারণত ২৮ দিনের হয়, তবে এটি ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে থাকলেও তাকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু যদি এই চক্র ২১ দিনের চেয়ে কমে আসে, তবে তাকে অনিয়মিত পিরিয়ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

কেন মাসে দুইবার পিরিয়ড হয়

মাসে দুইবার পিরিয়ড হওয়ার পেছনে কেবল অনিয়মিত জীবনযাপন নয়, বরং বেশ কিছু শারীরিক জটিলতাও দায়ী থাকতে পারে। পিরিয়ড চক্রে এমন পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: শরীরের ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন পিরিয়ড নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফলে এই হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে মাসে দুইবার রক্তপাত হতে পারে।
  • পিসিওএস বা পিসিওডি: বর্তমান সময়ে নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস একটি বড় সমস্যা। এতে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয়, যা হরমোনের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বিঘ্নিত করে পিরিয়ড অনিয়মিত করে তোলে।
  • জরায়ু ফাইব্রয়েড: জরায়ুর দেয়ালে এক ধরনের অ-ক্যান্সারজনিত টিউমার বা কোষের বৃদ্ধি ঘটে, যাকে ফাইব্রয়েড বলা হয়। এর ফলে পিরিয়ড চক্রের সময় কমে আসে এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হয়।
  • থাইরয়েড সমস্যা: থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের মেটাবলিজম ও হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঋতুচক্রের ওপর।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

মাঝে মাঝে হঠাৎ ওজন পরিবর্তন বা মানসিক চাপের কারণে পিরিয়ডের তারিখ এদিক-সেদিক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • যদি টানা দুই থেকে তিন মাস ধরে মাসে দুইবার পিরিয়ড হতে থাকে।
  • রক্তপাতের সময় যদি অসহ্য পেটে ব্যথা অনুভূত হয়।
  • রক্তের সাথে বড় ধরনের চাকা বা থলথলে অংশ নির্গত হলে।

শারীরিক যেকোনো পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়।

একঝলকে

  • সুস্থ পিরিয়ড চক্র সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে থাকে।
  • মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
  • পিসিওএস ও থাইরয়েড অনিয়মিত পিরিয়ডের প্রধান কারণ হতে পারে।
  • জরায়ুতে টিউমার বা ফাইব্রয়েড থাকলে অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *