সাবধান পুরুষরা! প্রস্রাবে এই ৫টি লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন বাড়ছে প্রস্টেট, এড়িয়ে গেলেই বিপদ!

সাবধান পুরুষরা! প্রস্রাবে এই ৫টি লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন বাড়ছে প্রস্টেট, এড়িয়ে গেলেই বিপদ!

চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট গ্রন্থি বেড়ে যাওয়ার সমস্যাটি বর্তমানে প্রকট হয়ে উঠছে। চিকিৎসাবিদ্যায় একে ‘এনলার্জড প্রোস্টেট’ বলা হয়। সময়মতো এর লক্ষণ শনাক্ত করতে না পারলে মূত্রনালি, মূত্রাশয় এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। মূলত বয়স বৃদ্ধি, বংশগতি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী কিছু রোগের কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।

প্রোস্টেট বৃদ্ধির প্রধান ৫টি লক্ষণ

প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে তা মূত্রনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:

  • ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া: প্রস্রাবের স্বাভাবিক গতি কমে যায় এবং ফোঁটা ফোঁটা করে প্রস্রাব নির্গত হতে থাকে।
  • মূত্রাশয় পূর্ণ মনে হওয়া: প্রস্রাব করার পরেও মনে হয় যে মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি হয়নি। এই অস্বস্তি সারাক্ষণ অনুভূত হতে পারে।
  • হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ: কোনো পূর্ব সংকেত ছাড়াই হঠাৎ করে তীব্র প্রস্রাবের বেগ অনুভব করা।
  • প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত: জটিলতা বাড়লে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা দিতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণ।
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা: গ্রন্থিটি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে প্রস্রাব করার সময় প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

কেন এই সমস্যা হয় এবং কারা ঝুঁকিতে আছেন

সাধারণত বয়স ৪০ বছর পার হওয়ার পর পুরুষদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তবে এর পেছনে আরও কিছু প্রভাবক কাজ করে:

১. বংশগতি: পরিবারে আগে কারও এই সমস্যা থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের পুরুষদের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

২. দীর্ঘস্থায়ী রোগ: যারা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের প্রোস্টেট বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি থাকে।

প্রতিকার ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

প্রোস্টেটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কেবল ওষুধ নয়, বরং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:

  • পানীয় গ্রহণে সতর্কতা: ক্যাফেইন যুক্ত পানীয়, কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় এবং অ্যালকোহল প্রোস্টেটের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই এগুলো বর্জন করা উচিত।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: শারীরিক পরিশ্রম বা নিয়মিত ব্যায়াম করলে প্রোস্টেট বৃদ্ধির লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ: সমস্যা বেশি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

একঝলকে

  • ৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের প্রোস্টেট বৃদ্ধির ঝুঁকি বেশি।
  • ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ও প্রস্রাবের সময় ব্যথা প্রধান লক্ষণ।
  • রক্ত দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
  • ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
  • অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *