রাতে দেখা দেওয়া এসব লক্ষণ কি কিডনি বিকল হওয়ার সংকেত! জানুন বিস্তারিত

কিডনি আমাদের শরীরের একটি অপরিহার্য অঙ্গ যা রক্ত পরিশোধন এবং ক্ষতিকারক বর্জ্য নিষ্কাশনে মূল ভূমিকা পালন করে। তবে কিডনি অকেজো বা বিকল হতে শুরু করলে শরীর কিছু বিশেষ সংকেত দিতে থাকে, যা দিনের তুলনায় রাতে অনেক বেশি প্রকট হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই প্রাথমিক অবস্থায় এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের (CKD) কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাতের উপসর্গ ও শরীরের পরিবর্তন
কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হতে পারে, কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কিডনি প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এছাড়া রাতে পা, গোড়ালি বা হাত ফুলে যাওয়া সোডিয়ামের ভারসাম্যহীনতার বড় লক্ষণ। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ঠিকমতো বের হতে না পেরে রক্তে জমা হওয়ার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং রাতে তীব্র চুলকানি বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে।
ঘুমের ব্যাঘাত ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি
কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। রক্তে টক্সিন বেড়ে যাওয়ায় অনিদ্রা এবং অস্থিরতা তৈরি হয়, যা সারাদিন শরীরে প্রচণ্ড ক্লান্তি ও অবসাদ নিয়ে আসে। অত্যন্ত গুরুতর পর্যায়ে ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমা হওয়ার কারণে রাতে শুয়ে থাকা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই পরীক্ষা করানো জরুরি, অন্যথায় কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এক ঝলকে
- রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া কিডনির কার্যক্ষমতা কমার প্রাথমিক লক্ষণ।
- শরীরে সোডিয়াম ও ফ্লুইড জমে যাওয়ায় পা এবং গোড়ালি ফুলে যেতে পারে।
- রক্তে বর্জ্য জমা হওয়ার কারণে রাতে অনিদ্রা, অস্থিরতা এবং ত্বকে চুলকানি দেখা দেয়।
- শোয়া অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হওয়া কিডনি বিকল হওয়ার একটি অত্যন্ত গুরুতর সংকেত।