ঘুম নেই চোখে? সাবধান! চোখের বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অপর্যাপ্ত ঘুম একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তবে রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে কাটানোর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের চোখের ওপর। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখে প্রচণ্ড ব্যথা, ভারী ভাব, জ্বালাপোড়া বা শুষ্কতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মূলত সারাদিন ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে কাজ করার পর চোখের পেশিগুলো যে বিশ্রামের প্রয়োজন বোধ করে, তা কেবল গভীর ঘুমের মাধ্যমেই সম্ভব হয়।
পেশির ক্লান্তি ও শুষ্কতা
প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. পুরেন্দ্র ভাসিনের মতে, ঘুমের সময় চোখের পেশিগুলো শিথিল হয় এবং চোখের উপরিভাগ নিজেকে মেরামত করে। অনিদ্রার কারণে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়, যা চোখের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে চোখে শুষ্কতা বা ‘ড্রাই আই’ সিনড্রোম তৈরি হয়, যা থেকে পরবর্তী সময়ে জ্বালাপোড়া ও চুলকানি শুরু হয়।
দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব
দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে তা কেবল সাময়িক ক্লান্তি নয়, বরং স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায় চোখের চারপাশে কালো দাগ এবং ফোলা ভাব দেখা দেয়। এর ফলে অনেক সময় দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা কোনো বিষয়ে ফোকাস করতে সমস্যা হওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা রাত জেগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।
প্রতিরোধের উপায়
এই সমস্যা থেকে বাঁচতে দৈনিক অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। ঘুমানোর আগে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকা এবং কাজের ফাঁকে ২০-২০-২০ নিয়ম (প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা) মেনে চলা জরুরি। এছাড়া চোখ হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর জল পান করা উচিত। তবে ব্যথা বা লাল ভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
এক ঝলকে
- অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে চোখের পেশি বিশ্রামের সুযোগ পায় না, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা ও ক্লান্তি তৈরি হয়।
- অনিদ্রার ফলে চোখের আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া এবং দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।
- ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও রাত জাগা চোখের রক্ত সঞ্চালনকে ব্যাহত করে ফোলা ভাব সৃষ্টি করে।
- সুস্থ থাকতে দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং কাজের মাঝে চোখের বিশ্রামের জন্য ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি।