তীব্র দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখবে জাদুকরী ‘খস’ পানীয়, জেনে নিন এর অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগুণ!

গ্রীষ্মের প্রখর রোদ, তীব্র লু এবং চিলচিলানি গরমে পুড়ছে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পার করেছে। এই চরম আবহাওয়ায় মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে তীব্র জলের ঘাটতি। ফলে সানস্ট্রোক বা লু লাগার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই পরিস্থিতিতে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখা অত্যন্ত জরুরি, যার জন্য ঘরোয়া প্রাকৃতিক পানীয় সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হতে পারে।
আয়ুর্বেদের আশীর্বাদ খস বা ভেটিভার
তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ‘খস’ (ইংরেজিতে ভেটিভার) নামক এক বিশেষ ভেষজ উদ্ভিদের উল্লেখ মেলে। এই গাছের শুকনো শিকড় প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে শীতল রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী। এর নিজস্ব প্রকৃতি বা তাসির অত্যন্ত ঠান্ডা হওয়ায় এটি শরীরের ভেতরের অতিরিক্ত তাপকে নিমেষেই শান্ত করতে পারে। খসের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। এই উপাদানগুলো গরমের কারণে কোষের ক্ষতি হওয়া রোধ করে এবং শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
প্রস্তুত প্রণালী ও বহুমুখী স্বাস্থ্যগুণ
বাজার থেকে খসের শুকনো শিকড় সংগ্রহ করে তা একটি কাচের বোতলে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেই ভেজানো জলের সঙ্গে পরিমাণমতো লেবুর রস, সামান্য নুন এবং চিনি বা মিছরি গুঁড়ো মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় চমৎকার খস ড্রিংক। তীব্র গরমে দিনে অন্তত একবার এই পানীয় পানের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘরোয়া পানীয়টি শুধু শরীরকে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার হাত থেকেই রক্ষা করে না, বরং এর রয়েছে বহুমুখী স্বাস্থ্যগুণ। গরমের দিনে সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দেওয়া পেটের গোলমাল দূর করে এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। খসের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ শরীরকে ভেতর থেকে টক্সিনমুক্ত করে, যার ফলে গরমে ত্বকে সৃষ্ট চুলকানি, র্যাশ বা ঘামাচির মতো সমস্যা দূর হয়। এছাড়া, খসের নিজস্ব মৃদু সুবাস মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমিয়ে মনকে সতেজ রাখতে দারুণ সাহায্য করে।