মহিলাদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাবে যোগাসন, সুস্থ থাকতে রোজ কোন আসনগুলি করবেন?

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে স্তন ক্যানসারের প্রকোপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ২০ জন মহিলার মধ্যে অন্তত ১ জন এই মারণ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ভারতেও প্রতি বছর ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে স্তন ক্যানসারের ঘটনা। এমনকি ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বার্ষিক আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, বসে কাজ করার অভ্যাস এবং মেদবৃদ্ধির কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে, বিশেষত বয়স চল্লিশ পার হলে। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত যোগাসন স্তন ক্যানসারের প্রতিরোধক হিসেবে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
ঝুঁকির কারণ ও যোগাসনের প্রভাব
সাধারণ স্তন ক্যানসারের পাশাপাশি বর্তমানে ‘ইনভেসিভ লোবিউলার কার্সিনোমা’ নামক এক বিরল ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থিতে ছোট টিউমার আকারে তৈরি হয়। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই রোগ পুনরায় ফিরে আসার আশঙ্কাও বেশি থাকে। প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন অভ্যাস করলে শরীরের মেদ কমে, বাহুমূল ও বুকের লসিকা গ্রন্থিগুলির পেশি সচল থাকে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়। এর ফলে শরীরে টিউমার কোষ তৈরি হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে তিন কার্যকরী আসন
মৎস্যেন্দ্রাসন
এই আসনটি করার জন্য পা দু’টি টানটান করে ছড়িয়ে বসে বাঁ পা মুড়ে ডান ঊরুর উপর রাখতে হবে। শরীরের উপরের অংশ বাঁ দিকে ঘুরিয়ে বাঁ হাত ডান হাঁটুর উপর এবং ডান হাত পিঠের দিক দিয়ে ঘুরিয়ে পায়ের পাতা ধরে রাখতে হবে। ২০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে থাকলে বুকের পেশি প্রসারিত হয় এবং লসিকা গ্রন্থিগুলিতে রক্ত সঞ্চালন সঠিক থাকে।
উষ্ট্রাসন
ম্যাটের উপর হাঁটু মুড়ে বসে পিছনের দিকে হেলে দু’হাত দিয়ে গোড়ালি ধরতে হবে। মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে পেটের অংশ সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকতে হবে। উষ্ট্রাসন নিয়মিত করলে থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির সক্রিয়তা বাড়ে এবং শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।
সালম্ব সর্বাঙ্গাসন
চিত হয়ে শুয়ে পা দুটি জোড়া করে উপরে তুলে দু’হাতের তালু দিয়ে পিঠ এমনভাবে ঠেলে ধরতে হবে যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত সরলরেখায় থাকে। থুতনি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে এবং দৃষ্টি থাকবে পায়ের আঙুলের দিকে। ৩০ সেকেন্ড এই আসন অভ্যাস করলে ঋতুস্রাবজনিত সমস্যার সমাধান হয় এবং বুকের পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।