একবার প্রেশারের ওষুধ ধরলে কি আর ছাড়ানো যায় না? জেনে নিন চিকিৎসকের আসল পরামর্শ

রক্তচাপ বাড়লেই অনেকের মনে এই আতঙ্ক তৈরি হয় যে, এবার বোধহয় সারাজীবন রোজ নিয়ম করে ওষুধ গিলে যেতে হবে! কিন্তু প্রেশার যদি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তাহলেও কি ওষুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে? এই বিষয়ে বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ বিমলেশ পাণ্ডে জানিয়েছেন যে, আজীবন ওষুধ খেতে হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে উচ্চ রক্তচাপের মূল কারণ এবং তা কতটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তার ওপর।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন সাধারণত বয়স, অতিরিক্ত ওজন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, অলস জীবনযাপন এবং জিনগত কারণে হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো বড় বিপদ এড়াতে চিকিৎসকেরা নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন বটে, তবে তার মানে এই নয় যে সবার ক্ষেত্রেই এটি আজীবনের সাজা। চিকিৎসকের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে এবং জীবনযাত্রায় সঠিক পরিবর্তন আনলে অনেক সময়ই ওষুধ ছাড়া প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
লাইফস্টাইল পাল্টালেই কমবে ওষুধের ডোজ়!
ওজন কমানো, প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম, খাবারে নুনের পরিমাণ কমানো, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, মদ্যপান ও ধূমপান বর্জন এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া— এই অভ্যাসগুলো রক্তচাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। জীবনযাত্রায় এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো আনতে পারলে চিকিৎসকেরা অনেক সময় ওষুধের পাওয়ার (ডোজ়) কমিয়ে দেন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ পুরোপুরি বন্ধও করে দিতে পারেন।
প্রেশার স্বাভাবিক হলে কি নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা যাবে?
ভুলেও এই ভুলটি করবেন না! আপনার রক্তচাপ এখন স্বাভাবিক দেখাচ্ছে, কারণ আপনি নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুট করে ওষুধ বন্ধ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ক্রনিক হাইপারটেনশন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে একদিন ওষুধ বন্ধ করলেও স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়া বা বন্ধ করার যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।