RO না বোতলের জল— শরীরে অজান্তেই বিষ ঢুকছে না তো? জল পানের আগে সত্যটা জানুন!

RO না বোতলের জল— শরীরে অজান্তেই বিষ ঢুকছে না তো? জল পানের আগে সত্যটা জানুন!

অনেকেরই ধারণা বোতলের জল বা রিভার্স আসামোসিস (RO)-এর জল চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, শুধুমাত্র ব্র্যান্ড দেখে নয়, জল পানের আগে তা কীভাবে ফিল্টার করা হচ্ছে এবং সংরক্ষণ করা হচ্ছে—সেটি জানাই সবচেয়ে জরুরি।

RO জল কতটা নিরাপদ? RO সিস্টেম জল থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের পাশাপাশি সিসা, তামা ও সোডিয়ামের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক দূর করে। বাড়িতেই এটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে:

  • খনিজ কমে যাওয়া: RO জল পরিশোধনের সময় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো কিছু জরুরি খনিজ উপাদান কমে যেতে পারে (তবে তা শরীরের জন্য একেবারেই ক্ষতিকারক নয়)।
  • রক্ষণাবেক্ষণ: সঠিক সময়ে ফিল্টার পরিবর্তন না করলে এটি অকেজো হয়ে পড়ে এবং ব্যাকটেরিয়ার আখড়া হতে পারে।

বোতলের জল নিয়ে সতর্কতা: ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর নিয়ম অনুযায়ী খাদ্যমানের বোতল ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। তবে ২০ লিটারের জার বা কেনা জল পান করার আগে খেয়াল রাখুন:

  • জলের আসল উৎস কী এবং কীভাবে পরিশোধন করা হয়েছে?
  • জারটি কত পুরনো, কড়া রোদে রাখা ছিল কি না এবং প্রতিবার ব্যবহারের আগে সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে কি না?

কোনটি সেরা এবং সুস্থ থাকতে আপনার করণীয়? RO এবং বোতলের জলের মধ্যে কোনটি এককভাবে ‘সেরা’ বলা কঠিন। নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখলে বাড়ির RO জল দারুণ বিকল্প। আবার সঠিক নিয়ম মেনে পরিশোধন করা হলে বোতলের জলও নিরাপদ।

জল পানের আগে যে ৬টি বিষয় মাথায় রাখবেন: ১. আপনার বাড়ির জলের উৎস (কলের জল নাকি বোরওয়েল) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। ২. নির্দিষ্ট সময় পরপর RO-এর ফিল্টার পরিবর্তন করুন। ৩. বোতলের জল কেনার আগে সরবরাহকারী সংস্থার মান যাচাই করে নিন। ৪. কেবল স্বাদ বা গন্ধ ভালো হলেই জল নিরাপদ—এমন ভাববেন না। ৫. জারের সিল ঠিক আছে কি না এবং বোতল পরিষ্কার কি না তা দেখুন। ৬. ওয়াটার ডিসপেনসার বা জার রাখার পাত্রটি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *