দীপাবলির আগে বাড়ি রং করাচ্ছেন? এই ভুলগুলো করলেই বিপদ!

উৎসবের মরসুমে ঘর রাঙানোর সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি ও করণীয়
উৎসবের আমেজ বাড়াতে ঘরবাড়ি নতুন রঙে রাঙিয়ে তোলার রীতি দীর্ঘদিনের। তবে রঙ করার কাজে ব্যবহৃত থিনার ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের তীব্র গন্ধ স্বাস্থ্যহানির বড় কারণ হতে পারে। রঙে থাকা উদ্বায়ী জৈব যৌগ বা ‘ভিওসি’ (VOC) বাতাসে মিশে মাথাব্যথা, চোখের জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিল সমস্যা তৈরি করে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই বিষাক্ত ধোঁয়া চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ঘর সাজানোর আগে স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
নিরাপদ উপায়ে রঙ ও সঠিক সতর্কতা
রঙ কেনার সময় তাতে ভিওসির মাত্রা যাচাই করে কম রাসায়নিকযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। রঙ করার সময় ঘরের দরজা-জানালা সবসময় খোলা রেখে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পুরনো দেয়াল থেকে রঙ চেঁছে তোলার সময় সিসার মতো ক্ষতিকর ধাতুর ধূলিকণা বাতাসে মিশে যেতে পারে, তাই এই কাজে পেশাদারদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া রঙ ও থিনার অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় এগুলোকে আগুন থেকে দূরে রাখা এবং বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা আবশ্যক। শিশু ও পোষ্য প্রাণীদের রঙ করা স্থান থেকে দূরে রাখলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিষক্রিয়া এড়ানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়
রঙের কাজ চলাকালীন সাধারণ কাপড়ের মাস্কের ওপর নির্ভর না করে মানসম্মত মাস্ক, গ্লাভস ও গগলস ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। মনে রাখতে হবে, কেবল গন্ধ চলে গেলেই ঘর নিরাপদ হয়ে যায় না; রঙ সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পরেও কিছুদিন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে উৎসবের আনন্দ বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং পরিবারের সবার সুস্বাস্থ্য অটুট থাকে।
এক ঝলকে
- স্বাস্থ্যের ঝুঁকি: রঙে থাকা ভিওসি ও রাসায়নিক ধোঁয়া শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
- সতর্কতা: রঙ নির্বাচনের সময় কম ভিওসি-যুক্ত পণ্য বেছে নিন এবং কাজ চলাকালীন দরজা-জানালা খোলা রাখুন।
- শিশুদের নিরাপত্তা: শিশু ও বয়স্কদের রঙ করা এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং রঙের পাত্র বা রাসায়নিক তাদের নাগালের বাইরে রাখুন।
- পেশাদার সহায়তা: পুরনো দেয়াল থেকে রঙ তোলার সময় বিষাক্ত ধূলিকণা থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।