বরিশাল মহাশ্মশানে প্রদীপ জ্বলে উঠল, ভূত চতুর্দশীর রাতে ফিরছে অমোঘ সেই দিপালী উৎসব!

বরিশাল মহাশ্মশানে ভূত চতুর্দশীতে আলোকসজ্জায় স্মরণ প্রিয়জনদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
প্রায় দুই শতক পুরনো বরিশাল মহাশ্মশানে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘শ্মশান দিপালী উৎসব’। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভূত চতুর্দশীর পুণ্যতিথিতে প্রিয়জনদের স্মরণে হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে এই ঐতিহাসিক মহাশ্মশান। ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র বরিশাল মহাশ্মশানেই এভাবে আলোর উৎসব পালিত হয়, যা ১৯২৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে।
বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি অসীম কুমার দাস মুরলী ও সাধারণ সম্পাদক বিজয় ভক্ত জানিয়েছেন, এবার ২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (৭ নভেম্বর) সারারাতব্যাপী শ্মশান দিপালী উৎসব পালিত হবে।
প্রায় ৭০ হাজার সমাধি মন্দির নিয়ে গঠিত এই বিশাল মহাশ্মশানে রয়েছে ৬০ হাজারের বেশি পাকা সমাধি এবং প্রায় ১০ হাজার কাঁচা মঠ। এ ছাড়াও কোনো স্বজনহীন প্রায় ৮০০ মঠ রয়েছে, যার মধ্যে শতাধিক বছরের পুরনো মঠও অন্তর্ভুক্ত। দিপালী উৎসবের রাতে গোধূলির পর থেকেই প্রতিটি সমাধি মোমবাতি, প্রদীপ ও টুনি লাইটের আলোকচ্ছটায় সেজে ওঠে। সমাধিগুলোতে প্রিয়জনদের ছবির সামনে রাখা হয় তাদের প্রিয় খাবার, আর ধূপের ধোঁয়ায় তৈরি হয় এক অপার্থিব পরিবেশ।
এই মহাশ্মশানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের বহু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—নারী আন্দোলনের নেত্রী মনোরমা বসু (মাসিমা), চিন্তাহরণ বসু, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সংগঠক দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, রানী ভট্টাচার্য, হিরণলাল ভট্টাচার্য, শৈলেশ্বর চক্রবর্তী, বিপ্লবী প্রাণ কুমার সেন এবং কবি জীবনানন্দ দাশের পিতামহ সর্বানন্দ দাশ ও পিতা সত্যানন্দ দাশ।
উৎসব উপলক্ষে শ্মশানকালী মন্দিরে বিশেষ পূজা ও মাঙ্গলিক আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও কীর্তনের ব্যবস্থা থাকে। মৃত্যুজনিত বিষণ্ণতাকে ছাপিয়ে ভালোবাসা ও ভক্তির এই অনন্য মহোৎসব দেখতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর অসংখ্য দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থী এখানে সমবেত হন। গভীর রাতে মোমবাতির আলোয় সারা মহাশ্মশান এক আলোকসাগরে পরিণত হয়, যা উপস্থিতদের মধ্যে এক গভীর আত্মশুদ্ধির আবেগ তৈরি করে।