না সোনোগ্রাফি না টেস্ট, প্রাচীনকালে এভাবেই জানা যেত গর্ভে পুত্র না কন্যা! ৩৫০০ বছরের পুরনো পদ্ধতিটি জানুন এখানে

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে বর্তমান যুগে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা বা গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ অত্যন্ত সহজ হয়ে পড়েছে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের কয়েক হাজার বছর আগেই প্রাচীন মিশরে গর্ভাবস্থা পরীক্ষার এক অবিশ্বাস্য পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। ঐতিহাসিক নথি ও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, প্রায় ৩৫০০ বছর আগে মিশরের অধিবাসীরা কোনো যন্ত্র ছাড়াই নির্ভুলভাবে সন্তান সম্পর্কে আগাম আভাস দিতে পারতেন।
গম ও যবের মাধ্যমে লিঙ্গ পরীক্ষা
খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১৩০০ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে মিশরের মহিলারা গর্ভাবস্থা যাচাইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি উপায় অবলম্বন করতেন। এই পদ্ধতিতে দুটি পৃথক ব্যাগে গম ও যবের বীজ রাখা হতো এবং তাতে সংশ্লিষ্ট মহিলার প্রস্রাব ঢালা হতো। যদি কয়েক দিনের মধ্যে ব্যাগ থেকে চারা গাছ গজালে তবেই নিশ্চিত হওয়া যেত যে ওই মহিলা গর্ভবতী। আশ্চর্যজনকভাবে, যদি কোনো বীজ অঙ্কুরিত না হতো, তবে ধরে নেওয়া হতো তিনি গর্ভবতী নন।
ছেলে না মেয়ে বোঝার অভিনব কৌশল
লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই মিশরীয় প্রযুক্তির বিশেষ কিছু নিয়ম ছিল। যদি ব্যাগটিতে শুধুমাত্র যবের চারা গজিয়ে উঠত, তবে প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী ধরে নেওয়া হতো ওই মহিলার পুত্র সন্তান হতে চলেছে। অন্যদিকে, যদি ব্যাগে গমের চারা গজাত, তবে তা কন্যা সন্তান জন্মের সংকেত হিসেবে গণ্য করা হতো। সমকালীন সমাজ ব্যবস্থায় এই পদ্ধতির প্রভাব ছিল ব্যাপক, যা সেই যুগের মানুষের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার এক অনন্য পরিচয় বহন করে।
আধুনিক গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতির নির্ভুলতা নিয়ে বর্তমানে বিতর্ক থাকলেও এর পেছনে হরমোনের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে তৎকালীন সময়ে প্রযুক্তি বা উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব সত্ত্বেও এমন জটিল প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
এক ঝলকে
- আজ থেকে প্রায় সাড় তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরে যব ও গমের বীজের সাহায্যে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করা হতো।
- বীজের অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যেত যে সংশ্লিষ্ট নারী গর্ভবতী কিনা।
- যবের চারা গজানো পুত্র সন্তান এবং গমের চারা গজানো কন্যা সন্তান জন্মের ইঙ্গিত বলে বিশ্বাস করা হতো।
- আধুনিক যন্ত্রপাতির অনুপস্থিতিতেও প্রাচীন এই প্রযুক্তি সেই সময়ের চিকিৎসা ভাবনার প্রখরতা প্রমাণ করে।