পুরানো কাপড়ই এখন লক্ষ্মীলাভের চাবিকাঠি!

বর্জ্য থেকে অর্থ: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে পুরনো কাপড়ের ব্যবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রামবাংলার অর্থনীতির এক নীরব ও শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠেছে বাতিল বস্ত্রের ব্যবসা। একদা যা কেবল গৃহস্থের অব্যবহৃত সামগ্রী ছিল, আজ তা এক সুসংগঠিত ও লাভজনক শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। এই চক্রকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠেছে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ।
সংগ্রহ থেকে বিপণন: যেভাবে চলছে কারবার
গ্রামাঞ্চলের আনাচে-কানাচে ঘুরে ফেরিওয়ালারা বাড়ি বাড়ি থেকে পুরনো শাড়ি ও জামাকাপড় সংগ্রহ করেন। গৃহস্থরা নগদ অর্থের বিনিময়ে অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় বাসনপত্রের বদলে এসব সামগ্রী বিক্রেতাদের হাতে তুলে দেন। সংগৃহীত এই কাপড় স্থানীয় আড়তদার বা মহাজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। কাপড়ের মান ও সুতোর গুণগত বিচারে প্রতিটি পোশাক সাধারণত ১০ থেকে ২২ টাকা দরে হাতবদল হয়। স্থানীয় পর্যায় থেকে সংগৃহীত এই কাপড় এরপর বড় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পৌঁছায় বৃহৎ শিল্প বাজারগুলোতে।
শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা ও উপযোগিতা
নদিয়ার অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ব্রজ গোপাল বসাকের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই ব্যবসার পরিধি ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে তাহেরপুর, বীরনগর ও বাদকুল্লার মতো বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ব্যবসা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। তিনি জানান, সরাসরি পোশাক হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী না হলেও, সংগৃহীত এই সুতির কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন কলকারখানা ও টেক্সটাইল মিলে। মূলত ভারী যন্ত্রাংশ পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এই কাপড়গুলো ব্যবহৃত হয়।
ছোট পিকআপ ভ্যান থেকে শুরু করে বড় লরি বোঝাই করে এই পুরনো কাপড় নিয়মিত শিল্পাঞ্চলগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই অভিনব মডেল একদিকে যেমন গ্রামীণ মানুষের রুটি-রুজির সংস্থান করছে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। মূলত ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ’ তৈরির এই প্রক্রিয়াই বর্তমান গ্রামীণ অর্থনীতির এক শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।