মার্শ-ঝড়ে কুপোকাত চেন্নাই, প্লেঅফের সমীকরণ কঠিন করে ফেলল লখনউ

মার্শ-ঝড়ে কুপোকাত চেন্নাই, প্লেঅফের সমীকরণ কঠিন করে ফেলল লখনউ

আইপিএলের মঞ্চে প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে আরও একবার দপ করে জ্বলে উঠল লখনউ সুপার জায়ান্টস। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়ে অনায়াসে হারিয়ে দিল টেবিলের অনেকটাই উপরে থাকা শক্তিশালী চেন্নাই সুপার কিংসকে। মিচেল মার্শের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ৭ উইকেটে জয় তুলে নিল এলএসজি। এই হারের ফলে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাইয়ের প্রথম চারে ওঠার স্বপ্ন বড়সড় ধাক্কা খেল এবং তাদের প্লেঅফের অঙ্ক অনেকটাই জটিল হয়ে গেল।

ম্যাচের শুরুতে টসে হেরে ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। মন্থর পিচে রান তুলতে রীতিমতো লড়াই করতে হয় দলের টপ অর্ডারের ব্যাটারদের। বড় শট খেলতে গিয়ে একে একে ব্যর্থ হন সঞ্জু স্যামসন (২০) এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড় (১৩)। আগের ম্যাচের নায়ক উর্বিল পটেলও মাত্র ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন সিএসকে ধুঁকছিল, তখন দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার কার্তিক।

ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে (২৫) সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন কার্তিক। বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করে তিনি ৪২ বলে ৭১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে শিবম দুবের অপরাজিত ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৭ রানের লড়াকু পুঁজি দাঁড় করায় চেন্নাই। লখনউয়ের পক্ষে আকাশ ২৬ রানে ৩টি উইকেট নেন।

মার্শের তাণ্ডব ও পুরানের ক্যামিও

১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টসের ওপেনার মিচেল মার্শ চেন্নাইয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। পাওয়ার প্লে-র ফায়দা তুলে পঞ্চম ওভারেই অংশুল কম্বোজের থেকে ২৮ রান তুলে নেয় লখনউ। প্রথম ৬ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ওঠে ৮৬ রান। মার্শ এবং জস ইংলিশের জুটি মাত্র ৭০ বলে ১৩৫ রান যোগ করে ম্যাচের রাশ সম্পূর্ণ লখনউয়ের হাতে এনে দেয়। ইংলিশ ৩২ বলে ৩৬ রান করে আউট হওয়ার পর শতরানের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হন মার্শ। মুকেশ চৌধুরীর বলে নিকোলাস পুরানের নেওয়া শট বোলারের আঙুল ছুঁয়ে স্টাম্পে লাগলে ৩৮ বলে ৯০ রান করে ফিরতে হয় এই অজি তারকাকে।

মার্শ আউট হওয়ার পর আবদুল সামাদ (৭) দ্রুত ফিরলে লখনউ কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে নিকোলাস পুরান ও ঋষভ পন্থের জুটি সেই চাপ সামলে নেয়। শেষ দিকে যখন ২৪ বলে ২৪ রান প্রয়োজন ছিল, তখন অংশুল কম্বোজের এক ওভারে টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ চেন্নাইয়ের হাত থেকে পুরোপুরি কেড়ে নেন পুরান। ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লখনউ।

প্লেঅফের জটিল সমীকরণ

এই ম্যাচটি জেতার জন্য চেন্নাইয়ের সামনে সমীকরণ অত্যন্ত সহজ ছিল, লখনউকে হারাতে পারলেই তারা পয়েন্ট টেবিলের প্রথম চারে জায়গা নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু এই অপ্রত্যাশিত হারের ফলে তারা টেবিলের ছয় নম্বরে নেমে গেল। মূলত পাওয়ার প্লে-তে চেন্নাইয়ের বোলারদের দিকভ্রান্ত বোলিং এবং লখনউয়ের টপ অর্ডারের বিধ্বংসী ব্যাটিংই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। টুর্নামেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে ম্যাচ হাতছাড়া করায় চেন্নাইয়ের শেষ চারে যাওয়ার পথ এখন অনেকটাই কণ্টকাকীর্ণ হয়ে পড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *