‘অনাথ’ পুরসভায় তৃণমূলের সুর নরম! বিধায়ক না থেকেও পরিষেবা নিয়ন্ত্রণে ‘সক্রিয়’ বিজেপি

‘অনাথ’ পুরসভায় তৃণমূলের সুর নরম! বিধায়ক না থেকেও পরিষেবা নিয়ন্ত্রণে ‘সক্রিয়’ বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের পুরসভা স্তরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঠিক তখনই এক অভিনব কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে বিজেপি। তৃণমূলের পুরপ্রধান বা কাউন্সিলরদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দলে যোগ না করিয়েও, পুর পরিষেবা এবং প্রশাসনিক কাজকর্মের নিয়ন্ত্রণ পরোক্ষভাবে নিজেদের হাতে নিতে শুরু করেছেন বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে বহু এলাকায় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যাওয়ায়, সেই শূন্যস্থানে এখন বিরোধী দলের বিধায়কদের নির্দেশেই কাজ হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বিধায়কদের কড়া নির্দেশ ও তৃণমূলের নমনীয় মনোভাব

সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট যে, বিজেপির নির্দেশ অনুযায়ীই বিভিন্ন পুরসভার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ নিজের এলাকার দুটি ওয়ার্ডে আবর্জনার স্তূপ দেখে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের তা সাফ করার কড়া নির্দেশ দেন এবং বিকেলের মধ্যেই সেই কাজ সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারপার্সন কস্তুরী চৌধুরী ভোটের পর পুরসভায় যাওয়া বন্ধ করে দিলে, বিজেপির তিন বিধায়ক— অরিজিৎ বক্সী, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং তরুণজ‍্যোতি তিওয়ারি উদ্যোগী হয়ে তাঁকে পুরসভায় ফিরিয়ে আনেন এবং বৈঠক করেন। বর্তমানে বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পুরপ্রধান কাজ করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে বনগাঁ পুরসভাতেও, যেখানে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল পুরপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করে পুর পরিষেবা মসৃণ রাখার আশ্বাস ও বার্তা দিয়ে এসেছেন।

প্রশাসনিক দোলাচল ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই নতুন সমীকরণের মূল কারণ হলো বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের নিচুতলার নেতা ও কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দোটানা এবং জনরোষের ভয়। অন্যদিকে, বিজেপি এই সুযোগে সরাসরি ক্ষমতা দখল না করেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের কর্মদক্ষতা প্রমাণ করা যায়। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে পুর প্রশাসন এক ধরণের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে, যেখানে সরকারি পদাধিকারী তৃণমূলের হলেও সিদ্ধান্তের রাশ থাকছে বিজেপির হাতে। এর ফলে আগামী দিনে পুরসভাগুলোর স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ এবং দলীয় আনুগত্যের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *