ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে জট কাটছে! আগামী সপ্তাহেই মিলতে পারে বড় ঘোষণা

ভারতে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা অবশেষে কাটতে চলেছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার সঙ্গে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির দর কষাকষির পর্ব শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) প্রাক্তন সচিব সাজি প্রভাকরণের একটি দাবি ঘিরে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।
সম্প্রচার নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের ভারতীয় উপমহাদেশে সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রির জন্য ফিফা প্রায় ১০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু ভারতের বড় বড় টেলিভিশন বা ডিজিটাল মিডিয়া সংস্থাগুলি এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে এই স্বত্ব কিনতে রাজি হয়নি। সোনি এবং জিয়োস্টারের মতো নামী গোষ্ঠীগুলি ফিফার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার পর দরদামে মিল না হওয়ায় চুক্তি থেকে পিছিয়ে আসে। এমনকি সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনও মাত্র ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে শুধু নক আউট পর্বের ম্যাচগুলি দেখানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ফিফা খারিজ করে দেয়। এর ফলে বিগত কয়েক মাস ধরে ভারতে বিশ্বকাপ দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
টেলিভিশনের পর্দায় ফেরার নতুন আশা
এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য শেষ মুহূর্তে লড়াইয়ে নেমেছে জ়ি গোষ্ঠী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, জ়ি গ্রুপ বাজারে নতুন সাতটি স্পোর্টস চ্যানেল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারই একটিতে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি সরাসরি সম্প্রচার করা হতে পারে। সম্প্রতি ফিফার প্রতিনিধিদের সঙ্গে জ়ি এবং জিয়ো গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত দরাদরি প্রায় শেষ। প্রাক্তন ফেডারেশন কর্তা সাজি প্রভাকরণ সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন যে আলোচনা সফল হয়েছে এবং ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বকাপ দেখার জন্য ভারতীয় ভক্তদের আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না।
প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় আয়োজন হতে চলেছে, কারণ এবারই প্রথম ৩২টির পরিবর্তে ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার নিশ্চিত হলে তা দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য বড় স্বস্তির খবর হবে। এর ফলে ভারতের ক্রীড়া বাজারে ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জোয়ার আসবে এবং নতুন স্পোর্টস চ্যানেলগুলির দর্শকসংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে, যা সামগ্রিকভাবে ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।