টানটান উত্তেজনার ফাইনালে ট্রফি খরা কাটালেন সাত্ত্বিক এবং চিরাগ

দীর্ঘ দুই বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে অবশেষে সাফল্যের নতুন ইতিহাস লিখলেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন জুটি সাত্ত্বিকসাইরাক রঙ্কিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টি। বারবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার যে আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল, সিঙ্গাপুর ওপেন ২০২৬-এর মঞ্চে অবসান ঘটল তার। ইন্দোনেশিয়ার শক্তিশালী জুটিকে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় পুরুষ ডাবলস জুটি হিসেবে সিঙ্গাপুর ওপেন খেতাব জয়ের অনন্য নজির গড়লেন তাঁরা। এই ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
ফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার ফাজার আলফিয়ান এবং মুহাম্মদ ফিক্রির বিরুদ্ধে ১ ঘণ্টা ১৩ মিনিটের এক মহাকাব্যিক লড়াই প্রত্যক্ষ করেন ক্রীড়ামোদিরা। ম্যাচের শুরুটা ভারতীয় জুটির জন্য সহজ ছিল না। প্রথম গেমে ছন্দের অভাবে ১৮-২১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন সাত্ত্বিক-চিরাগ। তবে দ্বিতীয় গেম থেকেই খোলনলচে বদলে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্য। দীর্ঘ র্যালি এবং দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ওপর ভর করে ২১-১৭ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তাঁরা। চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক গেমে ঠাণ্ডা মাথায় নেটের নিয়ন্ত্রণ রেখে এবং কম ভুল করে ২১-১৬ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোর্টেই উল্লাসে ফেটে পড়েন এই ভারতীয় তারকারা।
ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
২০২৪ সালে থাইল্যান্ড ওপেন জয়ের পর থেকে সাত্ত্বিক-চিরাগের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা থাকলেও ট্রফি আসছিল না। গত দুই বছরে চার-চারটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলেও রানার্স-আপ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁদের। সিঙ্গাপুরের এই সাফল্য মূলত এসেছে সেমিফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তথা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার জুটিকে হারানোর আত্মবিশ্বাস থেকে। ওই কঠিন ম্যাচ জয়ই ফাইনালের মঞ্চে তাঁদের মানসিক স্তরে এগিয়ে রেখেছিল।
ভবিষ্যতের পথচলায় নতুন মানদণ্ড
এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ী এই জুটির ঝুলিতে এটি নবম বিশ্ব ট্যুর খেতাব হলেও, এটিই তাঁদের ক্যারিয়ারের প্রথম সুপার ৭৫০ শিরোপা। এই জয়ের ফলে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় পুরুষ ডাবলসের অবস্থান আরও শক্ত হলো। দীর্ঘদিনের ফাইনালে হারের মানসিক চাপ কাটিয়ে এই ট্রফি জয় আগামী বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ব্যাডমিন্টন পরিকাঠামো ও জুটির আধিপত্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করবে।