মাঠে না নেমেও হিউস্টনে কাঁপন! হন্ডুরাস ম্যাচে খেললেন না মেসি, তবুও গ্যালারিতে ‘মেসি-জ্বর’

মাঠে না নেমেও হিউস্টনে কাঁপন! হন্ডুরাস ম্যাচে খেললেন না মেসি, তবুও গ্যালারিতে ‘মেসি-জ্বর’

মেসি-জাদুতে বুঁদ হিউস্টন, মাঠে না নেমেও গ্যালারির মন জিতলেন এলএমটেন

হিউস্টনের কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে শনিবার রাতের আর্জেন্টিনা বনাম হন্ডুরাস ম্যাচটি আর পাঁচটা সাধারণ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের গণ্ডি ছাড়িয়ে রূপ নিয়েছিল এক মহোৎসবে। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর কাছে এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল একটাই—বিশ্বকাপের আগে লিওনেল মেসিকে একবার চোখের সামনে দেখা। যদিও শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে মাঠে নামেননি এই মহাতারকা, তবুও পুরো ম্যাচ জুড়ে গ্যালারির একক নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁরই অদৃশ্য উপস্থিতির হাতে।

ভক্তদের উন্মাদনা ও মাঠের আবহ

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই হিউস্টন শহরের বুকে আছড়ে পড়েছিল নীল-সাদা আবেগ। সব বয়সি সমর্থকেরা আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ড্রাম বা ‘বোম্বো’ বাজিয়ে ও গান গেয়ে স্টেডিয়াম চত্বর মুখরিত করে তোলেন। বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য সমস্যা ও পেশির ক্লান্তির কারণে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে সতর্কতামূলক বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। তবে ম্যাচের আগে সতীর্থদের সঙ্গে তিনি যখনই ওয়ার্ম-আপের জন্য মাঠে নামেন, তখনই গ্যালারিতে শুরু হয় তীব্র হর্ষধ্বনি। ম্যাচ চলাকালীন মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বারবার গ্যালারি থেকে মেক্সিকান ওয়েভের সাথে ভেসে আসতে থাকে “উই ওয়ান্ট মেসি” চিৎকার। ৯০ মিনিট রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকলেও ভক্তদের ক্যামেরার লেন্স ও নজর আটকে ছিল মাঠের ধারের ওই বিশেষ আসনটিতেই।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও মেসির প্রভাব

মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই সেরেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে এই জয়ের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মেসির প্রতি মানুষের এই অবিশ্বাস্য আবেগ। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপই মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বৈশ্বিক আসর হতে পারে, আর এই ধারণাই সমর্থকদের মাঝে এক ধরণের আবেগঘন তাগিদ তৈরি করেছে। মাঠে ফুটবল পায়ে না দৌড়ালেও স্রেফ গ্যালারিতে তাঁর উপস্থিতিই যে একটি স্টেডিয়ামকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে, হিউস্টনের রাত আরও একবার বিশ্ব ফুটবলে মেসির সেই অদ্বিতীয় রাজকীয় অবস্থান ও বিপুল বাণিজ্যিক-আবেগগত প্রভাবকেই প্রমাণ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *