৪৮ দেশের মহাযুদ্ধ! বড় দলগুলির বিপদ কমলেও ফিফার মেগা বিশ্বকাপ কি জৌলুস হারাবে?

৪৮ দেশের মহাযুদ্ধ! বড় দলগুলির বিপদ কমলেও ফিফার মেগা বিশ্বকাপ কি জৌলুস হারাবে?

৪৮ দেশের বিশ্বযুদ্ধে কতটা কমছে বড় দলগুলির বিপদ

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে এবার মাঠে নামছে ৪৮টি দেশ। বিশ্বজুড়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দিতে এবং আরও বেশি দেশকে বৈশ্বিক মঞ্চে সুযোগ করে দিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এবার বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে প্রতিযোগিতার এই বর্ধিত পরিসর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যেমন উন্মাদনা তৈরি করেছে, তেমনই আসরের জৌলুস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় থাকা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মনে গভীর সংশয় জাগিয়েছে।

১৯৭৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৬টি দলের বিশ্বকাপ ধীরে ধীরে ৩২ দল হয়ে এবার ৪৮ দলে রূপ নিল। নতুন এই বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ইউরোপের বাইরের মহাদেশগুলো। এবার আফ্রিকা থেকে ১০টি এবং এশিয়া থেকে ৯টি দেশ অংশ নিচ্ছে, যা পূর্ববর্তী আসরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডন কিংবা উজবেকিস্তানের মতো ছোট ও নবাগত দেশগুলোর জন্য এটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

বড় দলগুলির স্বস্তি ও নক আউটের নতুন সমীকরণ

দল সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে, যা পরোক্ষভাবে ঐতিহ্যবাহী বড় দলগুলোর বিদায়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এবারের নিয়ম অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার টিকিট পাবে। গ্রুপ পর্ব থেকে মাত্র ১৬টি দল বিদায় নেবে। বিগত আসরগুলোতে জার্মানির মতো পরাশক্তির গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া কিংবা আর্জেন্টিনার মতো দলের শুরুর ধাক্কায় খাদের কিনারে চলে যাওয়ার যে রোমাঞ্চ ছিল, এবার তা প্রায় অনুপস্থিত। গ্রুপ পর্বের এই শিথিল ব্যবস্থার কারণে প্রথম নক আউট রাউন্ডের আগে বড় দলগুলোর বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব এবং জৌলুস হারানোর আশঙ্কা

এই বর্ধিত কাঠামোর একটি বড় নেতিবাচক দিক হলো গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর মানের আসামতা। অতীতে যেখানে প্রথম ম্যাচ থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও টানটান উত্তেজনা থাকত, সেখানে এবার জার্মানি বনাম কুরাসাও কিংবা স্পেন বনাম কেপ ভার্দেলের মতো একপেশে ম্যাচ দেখতে হবে দর্শকদের। শক্তির বিচারে দুই দলের ব্যবধান আকাশপাতাল হওয়ায় ফুটবলীয় রোমাঞ্চের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ৩২ দেশের বিশ্বকাপই ছিল প্রতিযোগিতার জন্য সবচেয়ে আদর্শ এবং আকর্ষণীয়। দীর্ঘায়িত এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেই নক আউটে যাওয়ার সুযোগ থাকায় ম্যাচের তীব্রতা কমবে এবং তা দর্শকদের ধৈর্যচ্যুতির কারণ হতে পারে। বিশ্বের সেরা দলগুলোর মধ্যকার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের যে মূল আকর্ষণ, একপেশে ম্যাচের আধিক্যের কারণে তা ম্লান হলে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের আবেদন কমে যাওয়ার একটি বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *