রাতভর বিশ্বকাপ, সকালে বায়োমেট্রিক! অফিসের চক্করে রাতের ঘুম উড়ল কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের

রাতভর বিশ্বকাপ, সকালে বায়োমেট্রিক! অফিসের চক্করে রাতের ঘুম উড়ল কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের

কলকাতা: শুরু হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ভারত মূলপর্বে না থাকলেও, ফুটবল নিয়ে কলকাতার উন্মাদনায় বিন্দুমাত্র খামতি নেই। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে আইটি সেক্টরের ক্যান্টিন— সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা, এবার ট্রফি উঠবে কার হাতে? কিন্তু এই ফুটবল জ্বরের মাঝেই কলকাতার চাকরিজীবীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ একটাই— রাত জেগে খেলা দেখে পরদিন ঠিক সময়ে অফিসে হাজিরা দেওয়া।

খেলা দেখবেন, নাকি ঘুমোবেন? চূড়ান্ত দোটানায় ফুটবলপ্রেমীরা

এবারের বিশ্বকাপের বেশিরভাগ হাইভোল্টেজ ম্যাচই ভারতীয় সময়ে সম্প্রচারিত হচ্ছে গভীর রাতে। কোনো ম্যাচ রাত সাড়ে ১২টা, তো কোনোটা রাত আড়াইটে বা ভোর সাড়ে ৩টেয়। ফলে পুরো ম্যাচ শেষ করে যখন ফুটবলপ্রেমীরা বিছানায় যাচ্ছেন, ততক্ষণে ভোরের আলো ফুটে উঠছে। আর তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছুটতে হচ্ছে অফিসের লোকাল ট্রেন বা মেট্রো ধরতে।

অফিসে হাজিরায় কড়াকড়ি, ফাঁকি দেওয়ার উপায় নেই!

বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি— উভয় ক্ষেত্রেই সময়মতো অফিসে পৌঁছনোর নিয়মকানুন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হয়েছে। বায়োমেট্রিক বা পাঞ্চিং-এর কড়াকড়ির কারণে একটু দেরি হলেই কাটা যেতে পারে ক্যাজুয়াল লিভ (CL) বা বেতন। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্মী আক্ষেপের সুরে জানান, “আগে একটু-আধটু দেরি হলে মানিয়ে নেওয়া যেত, কিন্তু এখন হাজিরা নিয়ে কড়াকড়ি চরম। তাই রাত জেগে ম্যাচ দেখার পর ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছনো মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।”

সেমিফাইনাল-ফাইনালের জন্য ছুটির প্ল্যান!

গ্রুপ পর্বের সাধারণ ম্যাচগুলো নাহয় এড়িয়ে যাওয়া গেল, কিন্তু নক-আউট পর্ব বা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও পর্তুগালের মতো হেভিওয়েট দলগুলোর ম্যাচ ছাড়তে নারাজ খাস কলকাতার ফুটবল-পাগল জনতা।

পরিস্থিতি সামলাতে অনেকেই এখন থেকেই ‘লিভ প্ল্যান’ বা ছুটির হিসাব কষতে শুরু করে দিয়েছেন। সল্টলেক সেক্টর ফাইভের এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী স্পষ্টই জানালেন, “সব ম্যাচ লাইভ দেখা সম্ভব নয়, তাই বেছে বেছে দেখব। তবে সেমিফাইনাল আর ফাইনাল ম্যাচের দিনগুলোয় কোনো ঝুঁকি নেব না, সরাসরি অফিস থেকে ছুটি নেব। বিশ্বকাপ তো আর রোজ রোজ আসে না, চার বছর পর এই উন্মাদনা মিস করা পাপ!”

আপাতত একদিকে প্রিয় দলের গোল উদযাপনের আনন্দ, আর অন্যদিকে পরদিন সকালে বসের বকা খাওয়ার ভয়— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপেই এখন দিন কাটছে তিলোত্তমার চাকরিজীবী ফুটবলপ্রেমীদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *