‘ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, আসল লক্ষ্য জয়!’ তিরুবনন্তপুরমে বিধ্বংসী ১৩৯ রানের পর বিস্ফোরক বিরাট

‘ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, আসল লক্ষ্য জয়!’ তিরুবনন্তপুরমে বিধ্বংসী ১৩৯ রানের পর বিস্ফোরক বিরাট

আরও একবার নিজের জাত চেনালেন ভারতীয় দলের ‘চেজ মাস্টার’ বিরাট কোহলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে তিরুবনন্তপুরমে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন তিনি। ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দেশকে একক শক্তিতে জয় এনে দিলেন ‘কিং কোহলি’। এই মহাকাব্যিক ইনিংসে সাজানো ছিল ১০টি চার এবং ৯টি দর্শনীয় ছক্কা, যার ওপর ভর করে ভারত ২৯৬ রানের বড় লক্ষ্য অতিক্রম করে মাত্র ৪১.৪ ওভারেই।

এই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫,০০০ রানের অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বিরাট। সচিন তেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তির পাশে এলিট ক্লাবে নাম লেখানোর পর অবশ্য একেবারে স্বভাবসুলভ বিনীত কোহলি।

‘রেকর্ড নয়, দলের প্রয়োজনই শেষ কথা’

ম্যাচ শেষে নিজের এই অবিস্মরণীয় মাইলস্টোন প্রসঙ্গে মুখ খুলে বিরাট জানান, “আমি কখনও মাইলস্টোন স্পর্শ করার কথা ভেবে ব্যাট করতে নামি না। আমার একমাত্র নজর থাকে দলের পরিস্থিতি এবং জয় সুনিশ্চিত করার দিকে। সঠিক মনোযোগ দিলে সাফল্য এমনিতেই আসে।”

দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ স্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বিরাটের কথায়, “এত বছর ধরে ভারতীয় দলে খেলতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করি। জীবনের এই জায়গায় পৌঁছানোর জন্য ঈশ্বরের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। এখনও মাথা নিচু করে কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়াই আমার একমাত্র মূলমন্ত্র।”

খেলার নতুন গিয়ার ও আক্রমণাত্মক মেজাজ

ক্যারিয়ারের এই বিশেষ মোড়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে মুখিয়ে রয়েছেন বিরাট। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি এখানেই থেমে থাকতে চান না।

শারীরিক ও মানসিক ফিটনেসের গুরুত্ব তুলে ধরে কোহলি বলেন, “এই পর্যায়ে মানসিকভাবে ফ্রেশ থাকা অত্যন্ত জরুরি। এখন আমার মূল চ্যালেঞ্জ হল নিজের ব্যাটিংকে আরও এক বা দুই গিয়ার ওপরে নিয়ে যাওয়া। নিজের খেলার এই নতুন রূপ আবিষ্কার করার লড়াইটাই আমাকে ভীষণভাবে রোমাঞ্চিত করছে।”

তিরুবনন্তপুরমের এই বিধ্বংসী ইনিংসের পর এটা পরিষ্কার—বিরাট কোহলি কেবল ম্যাচ জেতাচ্ছেন না, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিদিন নিজের নতুন সংস্করণ তৈরি করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *