কালীপুজোর অঘটন নিয়ে ওসিদের চরম হুঁশিয়ারি সিপির, ক্ষোভে ফুঁসছে পুলিশ মহল!

চোরবাগান বিপর্যয়: দায় এড়ানোর অভিযোগ নিয়ে সরব কলকাতা পুলিশ, ওসিদের একাংশকে ‘বলির পাঁঠা’ করার ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: চোরবাগানে সপ্তমীর রাতে পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ মহলে বাড়ছে ক্ষোভ। এই বিপর্যয়ের দায়ভার কেন বারবার কেবল থানার ওসিদের ওপর চাপানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন কলকাতা পুলিশের নিচুতলার আধিকারিকরা।
ঘটনার পর লালবাজার গিরিশ পার্ক থানার ওসিকে ‘ছুটিতে’ পাঠিয়েছে, যাকে কার্যত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অথচ, ঘটনায় দায়বদ্ধ ডিসি (সেন্ট্রাল), যুগ্ম কমিশনার (সদর) বা পুলিশ কমিশনারের মতো শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, চোরবাগানের মণ্ডপটি পরিদর্শনের পর শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশেই মাত্র দুজন ইনস্পেক্টরের নেতৃত্বে ২৬ জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। অভিযোগ, ঘটনার সময় মধ্য কলকাতার এক ডিসি যখন থানায় জন্মদিন পালন করছিলেন, সেই সময়েই চোরবাগানে বিপর্যয় ঘটে। নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের মতে, শীর্ষ কর্তাদের সিদ্ধান্তে ঘটা ত্রুটির দায়ভার নিতে গিয়ে তাদের ‘বলির পাঁঠা’ হতে হচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার দুপুরে আলিপুর বডিগার্ড লাইনসে কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে বাহিনীর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, “চোরবাগানের ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে।” সেই সঙ্গে পুলিশ কমিশনার আরও নির্দেশ দেন, পুজো মণ্ডপে সঠিক পরিকল্পনা মেনে ফোর্স বণ্টন করতে হবে এবং কোথাও ফোর্সের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত কন্ট্রোল রুমকে জানাতে হবে। চোরবাগানের মতো মর্মান্তিক বিপর্যয় যাতে পুনরায় না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।