এই ৪ ধরনের মানুষকে ভুলেও ঘরে ডাকবেন না হতে পারে চরম বিপদ

এই ৪ ধরনের মানুষকে ভুলেও ঘরে ডাকবেন না হতে পারে চরম বিপদ

আচার্য চাণক্য তাঁর নীতিশাস্ত্রে জীবনকে সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ করার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে গেছেন। তাঁর মতে, একজন মানুষের সাফল্য বা ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে তিনি কাদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন তার ওপর। চাণক্য নীতি অনুসারে, সমাজে এমন চার ধরনের মানুষ রয়েছেন যাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই ব্যক্তিদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো বা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো মানেই নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। জেনে নিন চাণক্য কাদের থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

অবিশ্বস্ত ব্যক্তি থেকে সাবধান

চাণক্য মনে করেন, বিশ্বাস হলো যেকোনো সম্পর্কের মূল ভিত্তি। যে ব্যক্তির ওপর আপনি ভরসা করতে পারছেন না বা যাকে দেখলেই মনে সন্দেহের দানা বাঁধে, তাকে কখনোই নিজের ব্যক্তিগত পরিসরে বা বাড়িতে প্রবেশ করতে দেবেন না। এই ধরনের মানুষ সুযোগ পেলেই আপনার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে পেছন থেকে ছুরি মারতে পারে। বিশেষ করে আপনার জীবনের কোনো গোপন পরিকল্পনা বা ভবিষ্যতের লক্ষ্য এই অবিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সামনে প্রকাশ করা উচিত নয়। এতে আপনার বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

বিপথগামী বা কুসঙ্গে থাকা মানুষ

মানুষের স্বভাব হলো সে খুব দ্রুত খারাপ অভ্যাস রপ্ত করে ফেলে। চাণক্য বলেছেন, যারা মদ্যপান, জুয়া বা অন্য কোনো অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের ছায়া থেকেও দূরে থাকা উচিত। এই ধরনের মানুষকে বাড়িতে ডাকলে আপনার পরিবারের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে বাড়ির ছোটদের ওপর এদের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে। চাণক্যের মতে, ভালো অভ্যাস গড়তে দীর্ঘ সময় লাগলেও মন্দ অভ্যাস আগুনের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিজের এবং পরিবারের মঙ্গলের জন্য কুসংসর্গ ত্যাগ করাই শ্রেয়।

চরম স্বার্থপর ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন

স্বার্থপর মানুষ কেবল নিজের লাভ বোঝে। চাণক্যের নীতি অনুযায়ী, যারা শুধুমাত্র নিজের প্রয়োজনে আপনার কাছে আসে, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যেকোনো স্তরে নামতে পারে এবং প্রয়োজনে আপনার চরম ক্ষতি করতেও দ্বিধাবোধ করবে না। এই ধরনের মানুষ আপনার উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাই এদের বাড়িতে ডেকে প্রশ্রয় দেওয়া একেবারেই উচিত নয়।

নেতিবাচক মানসিকতার মানুষ

যাঁরা সবসময় নেতিবাচক কথা বলেন বা সবকিছুর মধ্যেই খুঁত খুঁজে পান, তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চাণক্য। নেতিবাচকতা একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো। আপনি যদি আপনার বাড়িতে এমন কাউকে স্থান দেন যিনি সারাক্ষণ দুঃখপ্রকাশ করেন বা অন্যের নিন্দা করেন, তবে সেই নেতিবাচক শক্তি আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করে দেবে। আপনার ইতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং কর্মস্পৃহা কমিয়ে দিতে পারে এই ধরনের মানুষের সঙ্গ।

চাণক্য মনে করেন, জীবনের যুদ্ধে জয়ী হতে হলে সঠিক বন্ধু এবং সঠিক সঙ্গ নির্বাচন করা অপরিহার্য। এই চার ধরনের মানুষকে চিনে নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনুশোচনা করতে না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *